বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে জাহাজে হামলার সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে, একই সঙ্গে জলপথটি দিয়ে তেল পরিবহনও হঠাৎ কমে গেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর ও আরব সাগরজুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
তেহরান বলছে, নতুন সামরিক ইউনিট মোতায়েন করে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল এবং প্রতিপক্ষের তৎপরতার ওপর তাৎক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, হরমুজের ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ নেই এবং মার্কিন বাহিনী ও তাদের আঞ্চলিক অংশীদারেরাই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল সচল রাখছে।
দুই পক্ষের এই টানাপোড়েনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে তেল পরিবহন ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
ইরানের নৌবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চল থেকে শুরু করে ওমান সাগর ও আরব সাগরের বিস্তৃত এলাকায় নতুন ব্যবস্থায় সামরিক ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। একটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনার পর এই তৎপরতা বাড়ানো হয়।
ইরানি বাহিনী জানিয়েছে, ওই ইউনিটগুলো সমুদ্রপথে চলাচল এবং যেসব কর্মকাণ্ডকে তারা শত্রুপক্ষের তৎপরতা হিসেবে বিবেচনা করছে, সেগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করবে।
একই সঙ্গে জাহাজগুলোকে তাদের অবস্থান শনাক্তকারী ট্রান্সপন্ডার বন্ধ না করার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। নিরাপদে যাতায়াতের জন্য ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়েরও আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
তবে বিষয়টি শুধু নজরদারি বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ইরানের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রায় ১০ দিন আগে থেকে তেহরানের বিধিনিষেধ অমান্য করছে বলে বিবেচিত জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নতুন ধরনের আক্রমণাত্মক কৌশল ব্যবহার শুরু হয়েছে।
হামলার ধরন এবং সংখ্যা—দুটিতেই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তার দাবি। ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, তেহরান নতুন কৌশল ব্যবহার করে হরমুজে জাহাজ চলাচলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
ফলে গত কয়েক সপ্তাহে হরমুজ ও আশপাশের জলসীমায় জাহাজে হামলার পরিমাণ যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবরের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ১০টি ট্যাংকার হামলার শিকার হয়। এর পরদিন ৫ অক্টোবর আরও একটি জাহাজে হামলা হয়।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা কেন্দ্র ৬ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে আরও ১৫টি হামলার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র চার দিনেই ঘটেছে ১১টি হামলা।
মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে একটি কনটেইনার জাহাজ ও একটি ট্যাংকার অজ্ঞাত বস্তু বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, ঝুঁকি এখন শুধু হরমুজ প্রণালির সরু অংশে সীমাবদ্ধ নেই। ওমান সাগর এবং কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসংলগ্ন জলসীমাতেও ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত মিলছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে হামলার ভৌগোলিক পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে।
ইরান এসব হামলা ও বিধিনিষেধকে জাতীয় নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তারা হরমুজ প্রণালির চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ সামুদ্রিক তথ্যকেন্দ্র হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকিকে ‘গুরুতর’ পর্যায়ে রেখেছে, যা তাদের ঝুঁকি সূচকের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তর।
কেন্দ্রটির পর্যবেক্ষণে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের হামলা, হামলার চেষ্টা, ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি, নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজ অনুসরণ এবং সামুদ্রিক বেতারে যোগাযোগ করে সতর্ক বা চাপ সৃষ্টি করার মতো কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব বোঝার জন্য যুদ্ধের আগের পরিস্থিতির দিকে তাকানো প্রয়োজন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশও এই জলপথের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ফলে হরমুজে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যত প্রণালিটির চলাচল সীমিত করে এবং তাদের নির্ধারিত নিয়ম না মানা জাহাজের বিরুদ্ধে হামলা বাড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে।
এর মধ্যেও সেপ্টেম্বর মাসে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছিল।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ইরান বাদে উপসাগরীয় দেশগুলোর হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন সেপ্টেম্বরে যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ের ৮১ শতাংশের বেশি ফিরে পেয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ওই মাসে ১৪ দিন যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়কেও অতিক্রম করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সহায়তায় বেশি সংখ্যক ট্যাংকার প্রণালি অতিক্রম করতে শুরু করায় এমন উন্নতি দেখা দিয়েছিল।
কিন্তু এই পরিবহনের খরচ ছিল অনেক বেশি। হরমুজের ঝুঁকিপূর্ণ পথ অতিক্রমে জাহাজের নাবিকদের অতিরিক্ত ভাতা দিতে হয়েছে, বীমার খরচ উচ্চ পর্যায়ে থেকেছে এবং জাহাজ পরিচালনার সামগ্রিক ব্যয়ও বেড়েছে।
এর ফলে তেল রপ্তানি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি।
সাম্প্রতিক হামলার নতুন ঢেউ সেই সাময়িক স্বস্তিকেও আবার অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
প্রতিবেদনে কেপলারের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ১১ অক্টোবর হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ২৯ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়। অথচ মাত্র তিন দিন আগে, ৮ অক্টোবর, এই পথ দিয়ে প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ ব্যারেল তেল গিয়েছিল।
যুদ্ধের আগে দৈনিক গড় তেল পরিবহনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল।
অর্থাৎ কয়েক দিনের মধ্যেই তেল চলাচলে অত্যন্ত বড় ওঠানামা দেখা গেছে। এই অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য হরমুজ পরিস্থিতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আবারও সামনে এনেছে।
তেলের দামেও এর প্রভাব পড়ছে।
বুধবার ভোরে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১০৬ দশমিক ৫৮ ডলারে পৌঁছায়। আগের দিন মঙ্গলবার ব্রেন্টের লেনদেন শেষ হয়েছিল ১০৫ দশমিক ৬৯ ডলারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের মূল্য মঙ্গলবার ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ১৪ ডলারে স্থির হয়েছিল।
হরমুজে কে আসলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, এ নিয়েও তেহরান ও ওয়াশিংটনের বক্তব্য পুরোপুরি বিপরীত।
ইরান দাবি করছে, প্রণালির চলাচল এখন তাদের নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মের অধীন। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক সহায়তায় ছোট জাহাজ ব্যবহার করে তেল বড় ট্যাংকারে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
তেহরানের ভাষায় এই ব্যবস্থা তাদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু।
রেজাই আরও দাবি করেছেন, এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক জাহাজে ইরান নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা তেহরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে এসব দাবির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একমত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড সরাসরি বলেছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনী হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করে না। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদারদের বাহিনীই প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করেছে, তাদের সহায়তায় সোমবার উপসাগরীয় দেশগুলো ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে পরিবহন করতে পেরেছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, কোনো পক্ষের জন্যই পুরো জলপথকে নির্বিঘ্নে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে না।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপও তেহরানকে কৌশল বদলাতে বাধ্য করেছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি।
একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাডার সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করার পর বিপ্লবী গার্ড ছোট নৌকায় নিরস্ত্র পর্যবেক্ষক ব্যবহার শুরু করেছে।
এসব ব্যক্তি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু, এমনকি মার্কিন নৌযানও শনাক্ত করে বিপ্লবী গার্ডকে তথ্য দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা।
মার্কিন বাহিনী এমন একটি নৌযানের মুখোমুখি হয়ে এর আরোহীদের জাহাজ ছাড়তে নির্দেশ দেয় এবং পরে নৌযানটি ধ্বংস করে বলেও তিনি জানান।
হরমুজ ঘিরে সামরিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক দর-কষাকষিও চলছে।
ইরানের দাবি, প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ অবসানের জন্য তারা সাতটি শর্ত দিয়েছে। এর কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিলেও তেহরানের মতে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া এখনো যথেষ্ট নয়।
ইরান জানিয়েছে, তাদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সমঝোতার সম্ভাবনা নেই।
ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী ক্রিস ফেদারস্টোনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর সুযোগ দেখছে।
তবে তার মতে, প্রণালিটি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে আছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও ঠিক হবে না। বরং ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে তেহরান দেখাতে চাইছে যে যুক্তরাষ্ট্রও হরমুজকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন রাখতে পারেনি।
এই দ্বন্দ্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপরও চাপ বাড়ছে। কারণ হরমুজে অস্থিতিশীলতা যত দীর্ঘ হবে, উপসাগরীয় অর্থনীতি ও বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ তত বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সেপ্টেম্বরে তেল পরিবহন অনেকটা ঘুরে দাঁড়ালেও কয়েক দিনের হামলাই সেই অগ্রগতিকে আবার নড়বড়ে করে দিয়েছে।
এটি দেখাচ্ছে, হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন বাড়ানো সম্ভব হলেও বর্তমান সংঘাতের মধ্যে সেই প্রবাহ স্থায়ীভাবে নিরাপদ রাখা কঠিন।
তাই হরমুজের লড়াই এখন শুধু কে জলপথটি সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ, পরিবহন খরচ, জাহাজের বীমা, জ্বালানির দাম এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর রপ্তানি সক্ষমতা।
ইরানের নজরদারি ও হামলা বাড়ার পর আবার তেল পরিবহন কমে যাওয়ায় এই সংকট আরও স্পষ্ট হয়েছে। সামরিক উত্তেজনা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে হরমুজ দিয়ে তেলের প্রবাহে বড় ধরনের ওঠানামা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা আরও কিছুদিন চলতে পারে।

