সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর ধাহরান সদরদপ্তরে হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে চালানো এই হামলায় আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনের একাধিক তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পর সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আরামকোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কমপ্লেক্সে একটি প্রশাসনিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং সেখানে সীমিত আকারে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, এতে কোনো হতাহত হয়নি।
তবে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, হামলার পর ভবনের আগুন কয়েকটি তলায় ছড়িয়ে পড়ে। একটি সূত্রের দাবি, ভবনের দক্ষিণ অংশের নবম তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং পরে তা ষষ্ঠ থেকে দশম তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ভবনের ওপরের তিনটি তলা, যেখানে আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় রয়েছে, সেখানেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিছু অংশের ছাদ ধসে গেছে এবং জানালা ও দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আরামকোর এই কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার একটি কেন্দ্র রয়েছে। এখান থেকে তেলক্ষেত্র, শোধনাগার, রপ্তানি টার্মিনাল এবং দীর্ঘ পাইপলাইন নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সমন্বয় করা হয়।
ঘটনার পরও আরামকোর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কিছু কর্মীকে দূর থেকে বা রিমোট পদ্ধতিতে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কিছু কার্যক্রম আন্তর্জাতিক কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, তারা আরামকোর ধাহরান সদরদপ্তর, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আরামকোর রিয়াদ শোধনাগার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
হুথিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় হুথি অবস্থানে হামলা চালায়।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথি হামলা বেড়েছে। এর আগে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় হতাহত ও বিমান চলাচলে বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়।
আরামকো সদরদপ্তরে হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত তেল উৎপাদন বা রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়নি।

