ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় অঞ্চলে ডিজেল সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে কমে যাওয়া ডিজেলের মজুত পুনরুদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় লাগবে। ফলে আগামী বছরের বড় একটি সময়জুড়েও বিশ্ববাজারে জ্বালানিটির সরবরাহে ঘাটতি থাকতে পারে।
বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্যারিসভিত্তিক আইইএ তাদের মাসিক জ্বালানি বাজারবিষয়ক প্রতিবেদনে বলেছে, ডিজেলের বাজারে সংকট কাটানোর বিষয়টি মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ওপর নির্ভর করছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আগের মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।
গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি কমে গেছে। এর পাশাপাশি ইরানের পাল্টা হামলায় ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কারণে গত কয়েক সপ্তাহে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
সংকট সামাল দিতে কয়েকটি দেশের সরকার জ্বালানির ওপর কর কমিয়েছে বা ভর্তুকি দিয়েছে। কোনো কোনো দেশ কৌশলগত মজুত থেকেও জ্বালানি বাজারে ছেড়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এসব মজুত আবার পূরণ করতে হবে, যা বাজারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরের প্রথম তিন মাসে তেল শোধনাগারগুলো যুদ্ধ শুরুর আগের উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরে যেতে পারে। এতে ওই সময়ে চাহিদার তুলনায় ডিজেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উৎপাদন বাড়লেও ইরান যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া সামগ্রিক ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছে সংস্থাটি।
আইইএ সতর্ক করে বলেছে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়বে। এ পরিবর্তনের জন্য যে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে, তা এড়ানোর সুযোগও সংকুচিত হয়ে আসতে পারে।

