বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত হালনাগাদ সতর্কবার্তায় সৌদি আরবের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকার জন্য ভ্রমণ সতর্কতার মাত্রা চার ধাপের স্কেলে ১ থেকে বাড়িয়ে ২ করা হয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় মাত্রার সতর্কতার অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা।
অন্যদিকে ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো তৃতীয় মাত্রার সতর্কতার আওতায় রয়েছে। এসব অঞ্চলে জাপানি নাগরিকদের সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তায় সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার করা কিংবা সেগুলোর আশপাশে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবে হুথিদের হামলা বেড়েছে। এর মধ্যে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের কারণে সৌদি আরবে ভবিষ্যতে আরও হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানিয়েছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এ পরিস্থিতিতে যেসব জাপানি নাগরিক সৌদি আরব সফরের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ভ্রমণ স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারও সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির সরকারি ভ্রমণ পরামর্শবিষয়ক ওয়েবসাইট স্মার্টট্রাভেলারে নাগরিকদের সৌদি আরব সফরের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এবং সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ভ্রমণ নিষিদ্ধ করার পরামর্শ বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড সরকার সৌদি আরবের জন্য সর্বোচ্চ মাত্রার ‘ভ্রমণ করবেন না’ সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট সেফট্রাভেলে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। সেখানে অবস্থানরত নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের নিরাপদে দেশটি ছাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
ইয়েমেনের হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা এবং সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই তিন দেশের পক্ষ থেকে এসব সতর্কবার্তা এসেছে।

