ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে বৃহস্পতিবারের এ হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। নিহত ও আহতদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষী এবং সেখানে কর্মরত বেসামরিক কর্মীরা রয়েছেন। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের একটি সূত্র তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে জানিয়েছে, হামলায় পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে হুথিরা। হামলার সময় সরকারের কয়েকজন সদস্য প্রাসাদের ভেতরে ছিলেন।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হতাহতদের বিষয়ে তথ্য জানান। তিনি বৃহস্পতিবারের হামলাকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এডেন বিমানবন্দরে ইয়েমেনি সরকারকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার পুনরাবৃত্তি বলে উল্লেখ করেন।
বুহাইবেহ বলেন, ‘সরকার জনগণের মাঝে তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।’
এদিকে হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি এবং সরকারের অন্য সদস্যরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আল-মাশিক প্রাসাদের ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। সরকারি বার্তা সংস্থা সাবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাসাদের আশপাশের এলাকায় বেসামরিক বাড়িঘরেও গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।
হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রাসাদটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি তারা।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার লড়াই
ইয়েমেনে হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে তৎকালীন প্রেসিডেন্টের সরকারের সংঘাত ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। এর পরের বছর, ২০১৫ সালে, রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুথি বাহিনী। সে সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্দরাব্বুহ মনসুর হাদি। রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর তিনি সৌদি আরবে পালিয়ে যান।
হুথিদের হটিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০১৫ সালেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এতে সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও অংশ নেয়। তবে ২০২৫ সালে জোট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় আমিরাত।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরুর পর ইয়েমেন কার্যত দুটি প্রধান নিয়ন্ত্রণ এলাকায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্সিয়াল পরিষদভিত্তিক সরকারের প্রধান কেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেন। আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদও এই শহরে অবস্থিত।
সৌদি বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, এডেনে ‘সৌদি যুদ্ধ অভিযানের সদর দপ্তর’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি সামরিক উপস্থিতি রয়েছে—এমন যেকোনো স্থান বা স্থাপনাকে তাঁরা হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু বলে মনে করেন।
জুলাইয়ে হুথি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার পর আল-মাশিক প্রাসাদে এটিই প্রথম হামলার ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাটি ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
২. এডেনে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে হুথিদের হামলা, নিহত ৫
৩. ইয়েমেনে ফের সংঘাত, প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে হামলা
৪. সৌদি সামরিক সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলার দাবি হুথিদের
৫. ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে পাঁচ ক্ষেপণাস্ত্র, নিহত ৫
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে বৃহস্পতিবারের এ হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। নিহত ও আহতদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষী এবং সেখানে কর্মরত বেসামরিক কর্মীরা রয়েছেন।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের একটি সূত্র তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে জানিয়েছে, হামলায় পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে হুথিরা। হামলার সময় সরকারের কয়েকজন সদস্য প্রাসাদের ভেতরে ছিলেন।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হতাহতদের বিষয়ে তথ্য জানান। তিনি বৃহস্পতিবারের হামলাকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এডেন বিমানবন্দরে ইয়েমেনি সরকারকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার পুনরাবৃত্তি বলে উল্লেখ করেন।
বুহাইবেহ বলেন, ‘সরকার জনগণের মাঝে তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।’
এদিকে হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি এবং সরকারের অন্য সদস্যরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আল-মাশিক প্রাসাদের ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। সরকারি বার্তা সংস্থা সাবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাসাদের আশপাশের এলাকায় বেসামরিক বাড়িঘরেও গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।
হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রাসাদটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি তারা।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার লড়াই
ইয়েমেনে হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে তৎকালীন প্রেসিডেন্টের সরকারের সংঘাত ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। এর পরের বছর, ২০১৫ সালে, রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুথি বাহিনী। সে সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্দরাব্বুহ মনসুর হাদি। রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর তিনি সৌদি আরবে পালিয়ে যান।
হুথিদের হটিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০১৫ সালেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এতে সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও অংশ নেয়। তবে ২০২৫ সালে জোট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় আমিরাত।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরুর পর ইয়েমেন কার্যত দুটি প্রধান নিয়ন্ত্রণ এলাকায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্সিয়াল পরিষদভিত্তিক সরকারের প্রধান কেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেন। আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদও এই শহরে অবস্থিত।
সৌদি বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, এডেনে ‘সৌদি যুদ্ধ অভিযানের সদর দপ্তর’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি সামরিক উপস্থিতি রয়েছে—এমন যেকোনো স্থান বা স্থাপনাকে তাঁরা হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু বলে মনে করেন।
জুলাইয়ে হুথি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার পর আল-মাশিক প্রাসাদে এটিই প্রথম হামলার ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাটি ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

