ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে আটক অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে শনিবার আদালতে হাজির করার কথা জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সূত্র: দ্য হিন্দু
অন্যদিকে, সিজেপির দাবি, দীপকেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি নেতা অজিঙ্কা শিন্ডে বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকেকে অপহরণ করেছে। তাকে আটক করার পর ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার অবস্থান সম্পর্কে তার মা-বাবা, আইনজীবী কিংবা সিজেপির কাউকেই কোনো তথ্য জানানো হয়নি। আমরা সবাই শুধু একটি প্রশ্নের উত্তর চাই: অভিজিৎ কোথায়?’
এদিকে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আগামী ২৩ অক্টোবর দিল্লি অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন কৃষক সংগঠন।
অন্যদিকে, দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগ ও আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ভারতের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভের আগে আটক, পরে মুক্ত নেহা
গত শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় অভিজিৎ দীপকে ও নেহা বোরাকে আটক করে পুলিশ।
শনিবার সকালে নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়। দিল্লি পুলিশ জানায়, পুলিশ আইনের ৬৫ ধারার আওতায় আটকসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শান্তি বজায় রাখা এবং প্রতিরোধমূলক আটকের সঙ্গে সম্পর্কিত এসব ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার পর তাকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার নির্ধারিত কর্মসূচির কয়েক মিনিট আগে দিল্লির ঝান্ডেওয়ালান এলাকায় যে বাসায় থাকছিলেন, সেখান থেকে বের হয়ে বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার সময় দীপকেকে আটক করা হয়।
এআইএসএর অভিযোগ, আটকের পর নেহা বোরাকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়। পরে তাকে আর কে পুরম থানায় নেওয়া হয়। সংগঠনটি আরও জানায়, মধ্যরাতের দিকে থানায় পৌঁছানো আইনজীবীদের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
এআইএসএর সাবেক নেতা এবং বর্তমানে সিপিআই (এমএল)-এর সঙ্গে যুক্ত এন সাই বালাজি বলেন, দেশজুড়ে প্রায় ১২ ঘণ্টার বিক্ষোভ ও ক্ষোভের পর নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলবে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া প্রত্যাহার করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার জন্য নরেন্দ্র মোদি সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
জাতীয় পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ
শুক্রবার সন্ধ্যায় দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কের কাছে জাতীয় পতাকা হাতে জড়ো হন বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী, শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীরা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচির আগেও অভিজিৎ দীপকে এবং সংগঠনটির দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। মুম্বাই থেকে দিল্লি পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজের আসন থেকেই তাদের আটক করা হয়। পরে শান্তি বজায় রাখার মুচলেকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা যন্তর মন্তরে গিয়ে আরও ১২ জন সমর্থকের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ওড়ান। এরপর মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ, অনধিকার প্রবেশ এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা বর্তমানে তিহার কারাগারের একটি উচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট অংশে রয়েছেন।
সংগঠনটির আরেক সদস্য অজিঙ্কা শিন্ডেকেও শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।
২৩ অক্টোবর কৃষকদের দিল্লি অভিযান
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ২৩ অক্টোবর দিল্লি অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত কিষান মোর্চার (এসকেএম) অধীন বিভিন্ন কৃষক সংগঠন।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসকেএমের জ্যেষ্ঠ নেতা ও অল ইন্ডিয়া কিষান সভার সভাপতি অশোক ধাওয়ালে এ কর্মসূচির কথা জানান।
তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লি অভিযানের পাশাপাশি দেশের সব জেলা, তালুক ও ব্লক সদর দপ্তরে একযোগে বিক্ষোভ করবেন কৃষকেরা।
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হলো।
ভারতকে প্রশ্ন করতে রুবিওকে চিঠি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের
ভারতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও আটকের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি দিয়েছেন দেশটির ছয় ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রমিলা জয়পাল, ইলহান ওমর, জিম ম্যাকগভার্ন, রাশিদা তালাইব, এলিনর হোমস নর্টন ও হেসুস গার্সিয়া।
শুক্রবার পাঠানো চিঠিতে তারা বলেন, দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় দমন-পীড়ন, অন্যায়ভাবে আটক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের একটি ধারাবাহিক প্রবণতা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
আইনপ্রণেতারা আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় দূতাবাস এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে অবস্থিত কনস্যুলেটগুলো সিজেপির সমর্থনে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর নজরদারির জন্য আলোকচিত্রী নিয়োগ করেছে।
ভারত সফরের সময় মার্কো রুবিওকে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে গিয়ে মুম্বাইয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তার বৈঠক করার কথা রয়েছে।

