Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, অক্টো. 19, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » যুক্তরাষ্ট্রকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না ইউরোপ?
    আন্তর্জাতিক

    যুক্তরাষ্ট্রকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না ইউরোপ?

    নিউজ ডেস্কUpdated:অক্টোবর 18, 2026অক্টোবর 18, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর আলোচনা নতুন মোড় নিয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক প্রতিরক্ষার নিশ্চয়তা নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান ঘিরে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অস্ত্র প্রতিযোগিতা এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে নতুন পারমাণবিক সমঝোতা গড়ে তোলার প্রস্তাব সামনে এসেছে।

    প্রস্তাবটির মূল কথা হলো, ইউরোপকে নিজের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি নিতে হবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থার নিরাপত্তাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ন্যাটো রাষ্ট্রদূত ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলফার কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ গবেষক আইভো এইচ. ডালডার তাঁর ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের এক বিশ্লেষণে এমন প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা দূর করতে পুরোনো সমঝোতাকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া জরুরি।

    যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে কেন উদ্বেগ?

    ইউরোপের নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ও পারমাণবিক প্রতিরক্ষার নিশ্চয়তা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের নীতিগত পরিবর্তন ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

    ডালডারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুর দিকে ইউরোপের কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তাঁদের দেশ আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসবে বলে তাঁরা এখনো বিশ্বাস করেন কি না। উপস্থিত কর্মকর্তাদের কেউই ইতিবাচক সাড়া দেননি।

    ঘটনাটি ইউরোপের নিরাপত্তা-চিন্তায় পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। গত ১৮ মাস ধরে ব্রাসেলসসহ বিভিন্ন ন্যাটো সদস্যদেশে প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর আলোচনা চলেছে। তবে এর পাশাপাশি আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউরোপকে পারমাণবিক হামলা থেকে রক্ষার নিশ্চয়তা দিতে দ্বিধা করে, তাহলে ইউরোপের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে?

    যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন চাইছে, ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রচলিত সামরিক প্রতিরক্ষার প্রধান দায়িত্ব নিক, আর যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক প্রতিরক্ষার নিশ্চয়তা বজায় রাখুক। কিন্তু ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে এই আশ্বাস যথেষ্ট নয়। কারণ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে।

    ছয় দশকের পুরোনো সমঝোতায় ফাটল

    ইউরোপের পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতবিরোধ নতুন নয়। ছয় দশকেরও বেশি আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের স্পুতনিক উপগ্রহ উৎক্ষেপণ ন্যাটোর জন্য বড় নিরাপত্তা-উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এর আগে ইউরোপে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বৃহৎ প্রচলিত সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা প্রদর্শনের পর ইউরোপীয় দেশগুলো আশঙ্কা করতে শুরু করে, নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কি পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি নেবে?

    তখন একটি সমঝোতার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার পথ তৈরি হয়। ইউরোপের অধিকাংশ দেশ নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নীতি গ্রহণ করে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক পরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণে ইউরোপীয় মিত্রদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হয়।

    ১৯৬৮ সালের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির মাধ্যমে অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশ নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন অবস্থানকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেয়। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য অবশ্য এর ব্যতিক্রম ছিল, কারণ উভয় দেশই তখন পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী।

    পরবর্তী সময়ে ন্যাটোর পারমাণবিক পরিকল্পনা গোষ্ঠী গঠিত হয়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নীতিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর মতামত দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমানে ইউরোপের প্রায় অর্ধডজন দেশে এমন যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বি-৬১ পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম।

    ডালডারের মতে, এই সমঝোতা শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল ছিল না; বরং মিত্রদেশগুলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত রাখার মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করেছিল। তাঁর বক্তব্য, পুরোনো সেই ব্যবস্থার কার্যকারিতা এখন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

    ইউরোপের সামনে তিনটি পথ

    যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় ইউরোপের সামনে কয়েকটি বিকল্প তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিটি বিকল্পেরই সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

    প্রথম বিকল্প হলো, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সুরক্ষা বজায় রেখে ইউরোপের প্রচলিত সামরিক প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করা। ওয়াশিংটন এই ব্যবস্থাকে সমর্থন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউরোপের আরও কিছু দেশে পারমাণবিক অস্ত্র ভাগাভাগির ব্যবস্থা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। পোল্যান্ডকে এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কিন্তু ডালডারের মতে, শুধু নতুন অস্ত্র মোতায়েন করলেই মূল সমস্যার সমাধান হবে না। ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি কতটা নির্ভরযোগ্য, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    দ্বিতীয় বিকল্প হলো, ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে। পোল্যান্ড, সুইডেন ও জার্মানিতে এ নিয়ে আগ্রহের বিভিন্ন প্রকাশ দেখা গেছে।

    ২০২৫ সালের মার্চে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক নিজের দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার থাকার সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন। ২০২৬ সালে তিনি তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও পারমাণবিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সর্বাধিক স্বনির্ভরতার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানান।

    সুইডেনেও অতীতের গোপন পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে। জার্মানির সামরিক বাহিনীর একজন জেনারেলও নিজস্ব কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

    তবে এই পথের বড় সমস্যা রয়েছে। নতুন পারমাণবিক সক্ষমতা তৈরি করতে পোল্যান্ড, সুইডেন কিংবা জার্মানির বহু বছর সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের আন্তর্জাতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং ইউরোপে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

    তৃতীয় বিকল্পটি এসেছে ফ্রান্সের কাছ থেকে। ২০২৬ সালের মার্চে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ইউরোপীয় মিত্রদের নিরাপত্তায় ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরক্ষার ভূমিকা বাড়ানোর একটি উদ্যোগ ঘোষণা করেন।

    এই উদ্যোগের আওতায় ইউরোপীয় মিত্রদের পারমাণবিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ, মিত্রদেশগুলোর ভূখণ্ডে সাময়িকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ফরাসি যুদ্ধবিমান মোতায়েন এবং পারমাণবিক কৌশল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ পর্যন্ত ১০টি ইউরোপীয় দেশ দ্বিপক্ষীয় পরামর্শক গোষ্ঠী গঠনের মাধ্যমে এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।

    তবে ফ্রান্সের প্রস্তাবেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তের ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়। ফলে ইউরোপীয় মিত্রদের জন্য নিরাপত্তার আশ্বাস কিছুটা বাড়লেও তা যুক্তরাষ্ট্রের নিশ্চয়তার বিকল্প হয়ে উঠবে কি না, তা অনিশ্চিত।

    নতুন সমঝোতায় কী পরিবর্তন চান ডালডার?

    ডালডারের প্রস্তাব হলো, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পুরোপুরি বাদ দেওয়া কিংবা ইউরোপের দেশগুলোকে আলাদাভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে উৎসাহিত করার পরিবর্তে নতুন একটি সমন্বিত সমঝোতা গড়ে তোলা।

    এই ব্যবস্থায় ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ইউরোপের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ন্যাটোর বিদ্যমান পারমাণবিক পরিকল্পনা ও পরামর্শব্যবস্থায় ফ্রান্সকে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে।

    তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা বলেছেন।

    প্রথমত, পারমাণবিক অস্ত্র ও সেগুলো বহনের সক্ষমতা আধুনিক করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বি-৬১ মহাকর্ষীয় বোমার পরিবর্তে এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি, যা ন্যাটোর আকাশসীমা থেকেই রাশিয়ার গভীর অভ্যন্তরের লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে।

    একই সঙ্গে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথভাবে তৈরি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও রয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলো এর অর্থায়ন করতে পারে এবং পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন সদস্যদেশগুলোর মালিকানাধীন ও পরিচালিত যুদ্ধবিমানে এসব ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা তৈরি করা যেতে পারে।

    দ্বিতীয়ত, পারমাণবিক প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনা ও পরামর্শের কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে। ফ্রান্সকে ন্যাটোর পারমাণবিক পরিকল্পনা গোষ্ঠীতে যুক্ত করার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো ফরাসি পারমাণবিক কৌশল সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপের নিরাপত্তা চাহিদাও ফ্রান্সের নীতিনির্ধারকদের কাছে আরও পরিষ্কার হবে।

    তৃতীয়ত, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর হাতেই থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত অন্য কোনো সংস্থার কাছে হস্তান্তর করবে না।

    এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় আরও বেশি অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। ফ্রান্সকে ন্যাটোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে। আর যুক্তরাজ্যকে ফ্রান্সের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং নতুন অস্ত্রব্যবস্থা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

    অন্যদিকে পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন ইউরোপীয় দেশগুলোকে নতুন ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও নিরাপত্তা অবকাঠামোর অর্থায়নে অংশ নিতে হতে পারে। তবে তাদের নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার বজায় রাখতে হবে।

    অস্ত্র প্রতিযোগিতা এড়ানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

    নতুন সমঝোতা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা নিয়ন্ত্রণের কিছু অংশ নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে হবে। একই সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো এবং যৌথ উদ্যোগে অর্থায়নের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।

    তবে ডালডারের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রাখাও টেকসই সমাধান নয়। একদিকে রাশিয়ার সামরিক হুমকি, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তন—দুইয়ের প্রভাবে ইউরোপের নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

    ইউরোপ যদি সম্পূর্ণভাবে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে গিয়ে একের পর এক নতুন পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র তৈরি করে, তাহলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি পুরো মহাদেশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

    অন্যদিকে ইউরোপের নিরাপত্তা দুর্বল হলে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও পড়তে পারে। কারণ, আটলান্টিকের দুই পাশের নিরাপত্তা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

    সব মিলিয়ে, ইউরোপের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আগের মতো নির্ভর না করেও কীভাবে ন্যাটোর ঐক্য বজায় রাখা যায় এবং একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার ঠেকানো যায়?

    ডালডারের প্রস্তাবিত নতুন সমঝোতা সেই সংকট মোকাবিলার একটি সম্ভাব্য পথ। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের অন্য দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা প্রয়োজন।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

    অক্টোবর 19, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ককরোচদের মোকাবিলায় আত্মপ্রকাশ করল নতুন ‘লাল হিট জনতা পার্টি’

    অক্টোবর 19, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ট্রাম্প-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত-লাতিন আমেরিকার সঙ্গে জোট চান নেতানিয়াহু

    অক্টোবর 19, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.