পাকিস্তানে নিযুক্ত নতুন সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. রাজেহ তামি আলবুগামি সোমবার প্রতিরক্ষা প্রধান ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ ত্রিপক্ষীয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় অর্জিত অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা। সূত্র: ডন
আলবুগামি গত বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে কৌশলগত ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, সৌদি রাষ্ট্রদূত রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে (জিএইচকিউ) ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, “উভয় পক্ষ মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় অর্জিত অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও কৌশলগত সমন্বয় আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।”
ফিল্ড মার্শাল মুনির সৌদি রাষ্ট্রদূতকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলবুগামির কার্যকাল ইসলামাবাদ ও রিয়াদের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। এই সম্পর্ক অভিন্ন বিশ্বাস, পারস্পরিক আস্থা ও কৌশলগত অংশীদারত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলেও উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত সপ্তাহে সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
সাম্প্রতিক হুথি হামলা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আলবুগামির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ সৌদি আরবের “সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা” রক্ষায় পাকিস্তানের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে আলবুগামির সঙ্গে বৈঠকে উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার ইসলামাবাদ ও রিয়াদের দীর্ঘস্থায়ী ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দেন। পারস্পরিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়াতে দুই দেশের “যৌথ অঙ্গীকার” রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মক্কা চুক্তিতে দ্রুত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত
যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে পাকিস্তান ও সৌদি আরব দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি, অন্যটি মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট, যেখানে তুরস্কও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা জোটের আওতায় একটি জরুরি বৈঠকে বসে। সেখানে প্রয়োজন হলে সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা মোতায়েনের বিষয়ে তিন দেশ সম্মত হয়।
যদিও ওই বিবৃতিতে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে সৌদি আরবে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির লক্ষ্য সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করা। চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী কোনো একটি রাষ্ট্রের ওপর হামলাকে সব সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে রোববার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটিকে রক্ষা করতে পাকিস্তান “প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা” দিয়ে যাচ্ছে।

