ইউক্রেনের সামরিক ইতিহাসে নতুন নজির তৈরি হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখভাগ থেকে ভারী আকাশযান ড্রোনের সাহায্যে গুরুতর আহত এক সেনাকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর ৯২তম পৃথক অ্যাসল্ট ব্রিগেড সোমবার (১৯ অক্টোবর, ২০২৬) এই উদ্ধার অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করেছে।
ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রুশ ড্রোনের তীব্র তৎপরতা এবং আশপাশে বিপুলসংখ্যক ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখার কারণে প্রচলিত স্থলযান কিংবা উদ্ধারকারী দলের পক্ষে আহত সেনার কাছে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে ব্রিগেডের চালকবিহীন বিমান পরিচালনাকারী ইউনিটের বিশেষজ্ঞরা বিকল্প পদ্ধতিতে উদ্ধারের পরিকল্পনা করেন।
এ জন্য স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি ভারী হেক্সাকপ্টার ব্যবহার করা হয়। ছয়টি পাখাবিশিষ্ট এই ড্রোনটি মূলত বোমা বহন ও হামলা চালানোর জন্য নকশা করা হয়েছিল। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সেটিকে আহত সেনাকে সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একজন রিমোট অপারেটর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ করে আহত সেনার অবস্থানে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর পদাতিক বাহিনীর ওই সেনা নিজেকে ক্লিপের সাহায্যে ড্রোনের সঙ্গে শক্ত করে আটকে নেন। এরপর ড্রোনটি ভূমির খুব কাছ দিয়ে উড়ে ল্যান্ডমাইনবেষ্টিত এলাকা অতিক্রম করে তাকে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনে।
উদ্ধার অভিযান শেষে ড্রোনের অপারেটর আহত সেনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘মাটিতে স্বাগতম’। বর্তমানে ওই সেনা বিপদমুক্ত রয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
প্রচলিত উদ্ধারপদ্ধতিতে যেখানে উদ্ধারকারী দলকে সরাসরি শত্রুর হামলা, ড্রোন আক্রমণ ও স্থলমাইনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়, সেখানে দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে আহত সেনাকে সরিয়ে নেওয়ার এই ঘটনা বিকল্প প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরেছে।
ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর এই অভিযানে একটি হামলাকারী ড্রোনকে চিকিৎসাজনিত জরুরি উদ্ধারে ব্যবহার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তি আরও উন্নত করা গেলে বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সেনাদের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর ৯২তম পৃথক অ্যাসল্ট ব্রিগেডের প্রকাশিত ভিডিও ও বিবৃতি অনুযায়ী প্রদত্ত মূল প্রতিবেদন

