উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে সিউলকে ‘সবচেয়ে ভয়াবহ ও দুর্দশাপূর্ণ পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন ও দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে আবারও ‘প্রোপাগান্ডামূলক’ সম্প্রচার শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। অন্যদিকে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে উত্তর কোরিয়াকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে সিউল।
বুধবার (২১ অক্টোবর) কিম ইয়ো জং জানান, উত্তর কোরিয়া পুরো সীমান্তজুড়ে লাউডস্পিকার স্থাপন করবে। শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিতর্কিত সীমান্ত এলাকার সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনের পর তিনি এ ঘোষণা দেন।
উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে সিউলকে ‘সবচেয়ে ভয়াবহ ও দুর্দশাপূর্ণ পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেন কিম।
তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সামরিক ইউনিটগুলো নতুন অবস্থানে মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সীমান্তের কাছাকাছি কয়েকটি স্থানে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সতর্কতামূলক সম্প্রচার চালিয়েছেন এবং সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছেন।
তবে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, ‘বৈধ ও আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবেই এসব গুলি ছোড়া হয়েছে।
মতপার্থক্য দূর করে উত্তেজনা কমাতে উত্তর কোরিয়াকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ও একীকরণ মন্ত্রণালয়। দেশটির সামরিক বাহিনী বলেছে, সামরিক বাহিনীমুক্ত অঞ্চল বা ‘ডিমিলিটারাইজড জোনে’ নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে জাতিসংঘ কমান্ডের সঙ্গে তারা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, কিমের বক্তব্যে সেগুলোর কার্যকারিতা ফুটে উঠেছে।
উত্তর কোরিয়ার নতুন হুমকি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এ প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। গত বছরের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা এতটা বাড়েনি।
১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত কোরীয় যুদ্ধ চলে। পরে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটে। এরপর দুই কোরিয়ার মধ্যে একটি সামরিক বাহিনীমুক্ত অঞ্চল গড়ে তোলা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে স্থায়ী সীমান্ত গড়ে তুলতে ২০২৪ সাল থেকে ওই অঞ্চলে নিজেদের অংশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে উত্তর কোরিয়া। এ জন্য তারা মাইন পুঁতছে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধক ও বেড়া তৈরি করছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, গত মাসে উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরিত হয়ে দেশটির দুই সেনা গুরুতর আহত হন। সিউলের ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীমুক্ত অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবেই ওই মাইনগুলো পোঁতা হয়েছিল।
তবে উত্তর কোরিয়া এ ঘটনার দায় অস্বীকার করে বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়া ঘটনাটি সাজিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, এ বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি চিঠি পাঠানো হবে। এতে বলা হবে, উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইন থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা কোরীয় যুদ্ধের পর স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।
মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, চিঠিতে এ ঘটনার জন্য উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হবে। পাশাপাশি উত্তেজনা আরও বাড়তে না দিতে দেশটিকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হবে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই লি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছেন। তবে পিয়ংইয়ং আলোচনায় ফিরতে রাজি হয়নি। বরং দক্ষিণ কোরিয়াকে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছে।
গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার সীমান্তে লাউডস্পিকারে প্রচার বন্ধ করে দেয়। স্থায়ীভাবে বসানো লাউডস্পিকারগুলোও সরিয়ে ফেলা হয়। সিউল জানিয়েছিল, দুই দেশের মধ্যে আস্থা বাড়াতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর পর উত্তর কোরিয়াও দক্ষিণ কোরিয়াকে লক্ষ্য করে লাউডস্পিকারে প্রচার বন্ধ করে দেয়।
সূত্র: আল-জাজিরা

