চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া নগচু শহরের জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের।
সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোররাত ২টা ২৫ মিনিট নাগাদ আহত ৩২ জনের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর। বাকি ২১ জন সামান্য আহত হয়েছেন। উদ্ধার তৎপরতা চলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টারের (সিইএনসি) তথ্যমতে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল উত্তর তিব্বতের নগচু অঞ্চলের একটি জেলা। এলাকাটি জনবিরল ও অনেক উঁচুতে অবস্থিত। কেন্দ্রের অবস্থান ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার, অর্থাৎ প্রায় ১৫ হাজার ৯৬০ ফুট। জায়গাটি তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থলের কাছের একটি গ্রামে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কাছের কয়েকটি গ্রামের কিছু বাড়িতে ফাটলও দেখা দিয়েছে। কম্পন এতটাই জোরালো ছিল যে এক বাসিন্দা জানান, তাঁর ঘুম ভেঙে যায় এবং বাড়ি শব্দ করে কাঁপছিল।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের পর মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছেন। কেউ খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন, কেউ আবার রাস্তায় রাখা গাড়িতে রাত কাটাচ্ছেন। এর কারণ, বড় কম্পনের পর আরও কম্পনের আশঙ্কা থাকে। সিইএনসি জানিয়েছে, মূল কম্পনের পর আশপাশের এলাকায় ৩ ও ৪ মাত্রার কয়েকটি ছোট কম্পনও রেকর্ড করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্থানীয় অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। তবে এলাকাটি দুর্গম ও উচ্চভূমিতে হওয়ায় উদ্ধারকাজ কতটা দ্রুত এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারির পর চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি। তবে জনবসতি কম থাকায় প্রাণহানি তুলনামূলক সীমিত থাকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশুতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন। নিখোঁজ ছিলেন প্রায় ৩০০ জন। সেই তুলনায় এবারের ক্ষয়ক্ষতি এখন পর্যন্ত কম হলেও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে আরও সময় লাগবে।

