আগামী বছরও বিশ্বকে জ্বালানি সংকটের পরিণতি মোকাবিলা করতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল। তাঁর মতে, বিকল্প জ্বালানির উৎস খোঁজা ও সরবরাহের নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন দেশের সরকার উদ্যোগ নিলেও ২০২৭ সালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার মতো কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। শুক্রবার ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ‘ইনভেস্টমেন্ট সামিট টুওয়ার্ডস কপ-৩১’ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বিরোল বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন দেশের জ্বালানিনীতি পর্যালোচনা করে তিনি আগামী বছর স্বস্তি ফেরার মতো কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না। তাঁর ভাষ্য, ২০২৭ সালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদী নন। নতুন করে কোনো ক্ষত তৈরি না হলেও তখন বিশ্ব বর্তমান সংকটের ক্ষত সারিয়ে তোলার চেষ্টাতেই থাকবে।
আইইএ প্রধান জানান, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সৃষ্ট সংকট অর্থনীতি, কৃষি ও জ্বালানি খাতকে প্রভাবিত করছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার, কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীরা তাঁদের স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন। আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালের তেলসংকটের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, ওই দুই সংকট পারমাণবিক জ্বালানির উন্নয়ন এবং যানবাহনের জ্বালানিদক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করেছিল। অর্থাৎ সংকট কঠিন হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সুযোগও তৈরি করতে পারে।
সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরেছেন বিরোল। বিশ্বের মোট জ্বালানি ব্যবহারে বিদ্যুতের অংশ বর্তমান ২৩ শতাংশ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য তিনি প্রস্তাব করেন। এ জন্য আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশকে প্রতিশ্রুতিতে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর যুক্তি, বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে একদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণও কমানো যাবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর মতপার্থক্যের এই সময়ে এটি দেশগুলোর জন্য অভিন্ন লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে। এমন প্রতিশ্রুতি গৃহীত হলে বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারের কাছেও স্পষ্ট বার্তা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কপ-৩১ সম্মেলনকে তুরস্কের জন্য ‘সোনালি সুযোগ’ এবং বিশ্বের জন্য বড় সম্ভাবনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিরোল। তাঁর মতে, সম্মেলনের সাফল্য মূল্যায়নে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, কতটি দেশ এতে অংশ নিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে দেশগুলো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে কি না।
বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই সতর্কবার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জ্বালানির দাম ও সরবরাহে অনিশ্চয়তা দীর্ঘ হলে আমদানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে বিরোলের এই বক্তব্য একটি পূর্বাভাস মাত্র। হরমুজ প্রণালিসহ ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির গতিপথের ওপরই শেষ পর্যন্ত বাস্তব চিত্র নির্ভর করবে।

