মধ্যপ্রাচ্যে এখন যুদ্ধের আগুন নেভানোর চেয়ে সেই আগুন আর কত দূর ছড়িয়ে পড়বে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইয়েমেনে নতুন করে তীব্র লড়াই, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলা, লোহিত সাগরের কৌশলগত নৌপথ ঘিরে উত্তেজনা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে একটি ভুল সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। কিন্তু যে দেশকে সৌদি আরব হুথিদের অন্যতম প্রধান মিত্র হিসেবে দেখে, সেই ইরানই কি দুই পক্ষের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হতে পারবে? নাকি এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে নিজের আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখার আরও বড় হিসাব?
১১ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে যোগাযোগের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে সহায়তার প্রস্তাব দেন। তেহরানের বক্তব্য, শুধু সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এই সংকটের সমাধান হবে না; রাজনৈতিক সমাধানের পথও খুঁজতে হবে। কিন্তু ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সৌদি আরব কিংবা হুথি—কোনো পক্ষ থেকেই এই প্রস্তাবের জবাব পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ মধ্যস্থতার প্রস্তাব এসেছে, কিন্তু আলোচনার দরজা এখনো খোলেনি।
মধ্যস্থতাকারী ইরান, নাকি নিজের স্বার্থের খেলোয়াড়?
ইরানের এই উদ্যোগকে নিছক শান্তির প্রস্তাব হিসেবে দেখলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আড়ালে থেকে যাবে। তেহরান একদিকে হুথিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে, অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ ধরে রাখতে চায়। ফলে এই সংকটে ইরানের হাতে যেমন মধ্যস্থতার সুযোগ রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিজের আঞ্চলিক অবস্থান শক্তিশালী করার সম্ভাবনাও।

ইরানের পররাষ্ট্রনীতির হিসাবটা এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অগ্রগতি যদি সৌদি আরবকে আরও বেশি চাপে ফেলে, তাহলে তেহরান আঞ্চলিক আলোচনায় নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। আবার সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তার প্রভাব শুধু সৌদি আরব বা ইয়েমেনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; লোহিত সাগরের বাণিজ্য, উপসাগরীয় নিরাপত্তা এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ইরানের জন্যও সংঘাতের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। হুথিরা ইরান-সমর্থিত হলেও তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক লক্ষ্য, সামরিক হিসাব ও ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ স্বার্থ রয়েছে। তারা ইরানের নির্দেশে পরিচালিত একটি নিষ্ক্রিয় গোষ্ঠী- এমন ধারণা বাস্তবতাকে অতিরিক্ত সরল করে ফেলে। আল জাজিরার বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, তেহরানের হুথিদের ওপর প্রভাব রয়েছে, কিন্তু তাদের সিদ্ধান্তের ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।
এ কারণেই ইরান চাইলেই হুথিদের অস্ত্র নামাতে বা সব সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য করতে পারবে- এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং হুথিরা যদি মনে করে সামরিক চাপ বাড়িয়ে সৌদি আরবের কাছ থেকে বেশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ছাড় আদায় করা সম্ভব, তাহলে তেহরানের শান্তির আহ্বান সত্ত্বেও তারা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে। মধ্যস্থতার আসল পরীক্ষা সেখানেই।
সৌদি আরব কেন ইরানের প্রস্তাবে সাড়া দেবে?
সৌদি আরবের জন্য বিষয়টি শুধু হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করার প্রশ্ন নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদারও বিষয়। রিয়াদের বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হামলার ঝুঁকিতে থাকলে সৌদি নেতৃত্বের ওপর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ তৈরি হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ সৌদি আরবের অর্থনীতি, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্যও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।
এখানে সৌদি আরবের দ্বিমুখী সংকট রয়েছে। একদিকে হুথিদের হামলার জবাব দিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে এমন কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া যাবে না, যার শেষ কোথায় তা বোঝা কঠিন। সামরিক শক্তি দিয়ে হুথিদের দুর্বল করা সম্ভব হলেও তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তি পুরোপুরি মুছে ফেলা সহজ নয়। গত এক দশকের সংঘাত সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে।

তাহলে সৌদি আরব ইরানের মধ্যস্থতা গ্রহণে দ্বিধায় থাকবে কেন? কারণ, তেহরানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণ করলে এমন একটি ধারণা তৈরি হতে পারে যে হুথিদের ওপর ইরানের প্রভাবই তাদের সঙ্গে সমঝোতার প্রধান পথ। এতে সৌদি আরবের উদ্বেগ বাড়তে পারে যে ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইরানের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে ওমানের আগে থেকেই হুথিদের বিষয়ে যোগাযোগের অভিজ্ঞতা রয়েছে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতাও একটি বিকল্প পথ।
তাই রিয়াদের জন্য প্রশ্নটি শুধু ইরানকে বিশ্বাস করা না-করার নয়; বরং কোন মধ্যস্থতাকারী এমন একটি সমঝোতা নিশ্চিত করতে পারবে, যেখানে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে, হুথিদের হামলা বন্ধ হবে এবং ইয়েমেনের রাজনৈতিক সংকটও আলোচনার বাইরে পড়ে থাকবে না।
আমার বিবেচনায়, ইরানকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে যেমন হুথিদের ওপর কার্যকর প্রভাব বিস্তার কঠিন হতে পারে, তেমনি ইরানকেই একমাত্র মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মেনে নেওয়াও সৌদি আরবের জন্য সহজ সিদ্ধান্ত হবে না। বরং ইরান, ওমান ও জাতিসংঘের সমন্বয়ে একটি গ্রহণযোগ্য কূটনৈতিক কাঠামো তৈরি করা গেলে উভয় পক্ষের আস্থা তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে। তবে সেটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কতটা আন্তরিকভাবে সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় তার ওপর।
বাব আল-মান্দেব: ছোট জলপথ, বিশাল চাপ
ইয়েমেনের সংঘাতকে শুধু সৌদি আরব ও হুথিদের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলে এর আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বোঝা যাবে না। এই সংকটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বাব আল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের প্রশ্ন।
বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী বহু বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই পথ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল এবং এই প্রণালীর আশপাশে হুথিদের সামরিক অবস্থান শক্তিশালী হলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ ৯ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদকে জানান, দেশটি আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ফিরে গেছে। মোচা ও বাব আল-মান্দেবের উপকূলবর্তী এলাকায় হুথিদের অগ্রগতির পর তাইজ, লাহিজ, মারিব, আল-জাওফ ও হাজ্জাহসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে লড়াই তীব্র হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। হুথিরা যদি সামরিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপ বজায় রাখতে পারে, তাহলে তাদের দর-কষাকষির ক্ষমতাও বাড়তে পারে। তবে সামরিক অবস্থান শক্তিশালী হওয়া আর দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বিজয় অর্জন এক বিষয় নয়। যুদ্ধের ময়দানে সুবিধা পাওয়া কোনো পক্ষের পক্ষেই অর্থনীতি পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন এবং স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দেয় না।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও ঝুঁকিটি কম নয়। নৌপথে হামলার আশঙ্কা বাড়লে জাহাজের বীমা ও পরিবহন খরচ বাড়তে পারে, পণ্য সরবরাহে বিলম্ব হতে পারে এবং জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নয়, দূরবর্তী বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদেরও বহন করতে হতে পারে।
অর্থাৎ ইয়েমেনের যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে স্থানীয় সংঘাতের প্রতিটি বড় পদক্ষেপের প্রভাব আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ কারণেই সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুধু দুই পক্ষের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তারও প্রশ্ন।
যুদ্ধবিরতি হলেই কি শান্তি আসবে?
এখানেই সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি সামনে আসে। ইরান যদি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব ও হুথিদের আলোচনার টেবিলে আনতেও পারে, তাহলেই কি ইয়েমেনের সংকটের সমাধান হয়ে যাবে? বাস্তবতা বলছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অনেক আগেই হবে।
একটি যুদ্ধবিরতি সাময়িকভাবে হামলা কমাতে পারে, বিমানবন্দর ও বন্দরগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সাহায্য করতে পারে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য আরও বড় সমস্যাগুলোর সমাধান প্রয়োজন। ইয়েমেনের বন্দর ও বিমানবন্দরের ওপর বিধিনিষেধ, সরকারি কর্মচারীদের বেতন, তেল ও গ্যাসের রাজস্বের বণ্টন, পুনর্গঠন, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা- এসব প্রশ্ন এড়িয়ে কোনো সমঝোতা টেকসই হবে না।
একই সঙ্গে হুথিদের রাজনৈতিক স্বীকৃতি ও ক্ষমতার অংশীদারত্বের প্রশ্নও আলোচনায় আসতে পারে। কিন্তু এসব বিষয়ে ছাড় দেওয়া সৌদি আরব ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। অন্যদিকে হুথিরা সামরিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বড় ধরনের ছাড় আদায়ের চেষ্টা করলে আলোচনার পথ আরও কঠিন হবে।
এখানে একটি সহজ উদাহরণ দেওয়া যায়। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে যদি সাময়িকভাবে মারামারি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়, কিন্তু জমি, নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে মূল বিরোধের সমাধান না হয়, তাহলে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। ইয়েমেনের পরিস্থিতিও অনেকটা তেমন। শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ বন্ধ করলেই হবে না; যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিরোধ বারবার সংঘাতকে উসকে দিচ্ছে, সেগুলোরও সমাধান করতে হবে।
এ ছাড়া ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শুধু সৌদি আরব ও হুথিদের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়। দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার, অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি এবং সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের স্বার্থও বিবেচনায় নিতে হবে। অন্যথায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হলেও ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন থেকে যেতে পারে।

আমার মতে, ইরানের মধ্যস্থতা সফল হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তেহরানের হুথিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে, আবার সৌদি আরবের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় আছে। কিন্তু এই দুই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে কার্যকর সমঝোতা তৈরি করা আর সেই সমঝোতা দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা সম্পূর্ণ আলাদা চ্যালেঞ্জ।
সবচেয়ে বড় বাধা হলো পারস্পরিক অবিশ্বাস। সৌদি আরব চাইবে নিজের ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। হুথিরা চাইবে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও অর্জিত সামরিক সুবিধা ধরে রাখতে। ইরান চাইবে আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রেখেও নিজের কূটনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতে। এই তিনটি স্বার্থের মধ্যে গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য তৈরি করা সহজ হবে না।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি তাই শুধু ইরান মধ্যস্থতা করতে পারবে কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো, সৌদি আরব, হুথি ও ইরান- তিন পক্ষই কি নিজেদের তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ও সামরিক লাভের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য প্রয়োজনীয় ছাড় দিতে প্রস্তুত? কারণ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু করার পেছনে কৌশলগত হিসাব থাকতে পারে, কিন্তু সেই যুদ্ধের পরিণতি নিয়ন্ত্রণ করা অনেক বেশি কঠিন।
ইরান আলোচনার দরজা খুলতে পারে, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে শান্তি আসবে কি না, তা নির্ভর করবে পক্ষগুলো কতটা আন্তরিকভাবে যুদ্ধের বদলে সমঝোতাকে বেছে নেয় তার ওপর। ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের জন্য এটাই সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন। আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা- আরেকটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে সন্তুষ্ট না থেকে কীভাবে এমন রাজনৈতিক সমাধান তৈরি করা যায়, যা ইয়েমেনকে বারবার যুদ্ধের দিকে ফিরে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে।

