২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আনাদোলু।
চিকিৎসা সূত্র আনাদোলুকে জানিয়েছে, গাজা শহরের পশ্চিমে আল-নাসর মহল্লায় একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়। এতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন।
অন্য একটি ঘটনায় গাজা শহরের আল-রিমাল মহল্লায় ইসরায়েলি হামলায় বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
শুক্রবার সকালে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকার আল-কুব্বা সড়কে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। চিকিৎসা ও স্থানীয় সূত্র আনাদোলুকে জানিয়েছে, ওই হামলায় সাইকেলে থাকা একজন নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
এদিকে, মধ্য গাজার আল-মাসদার গ্রামের পূর্বাঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা সম্প্রসারণ করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সেনাবাহিনী তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ চিহ্নিত কংক্রিটের ব্লকগুলো বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণ এলাকার বাইরে সরিয়ে নিয়েছে। এর ফলে আল-মাসদার গ্রামের পূর্বদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত হয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, রাতের মধ্যে এসব ব্লক প্রায় ৫০০ মিটার সরিয়ে নেওয়া হয়। সকালে গ্রামের পূর্বদিকে ইবন যায়দুন মোড়ের কাছে নিজেদের বাড়ির মধ্যে কংক্রিটের ব্লকগুলো দেখতে পেয়ে বাসিন্দারা বিস্মিত হন।
সূত্রমতে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মধ্য গাজার পূর্বাঞ্চলে ‘হলুদ রেখা’ বরাবর ইসরায়েলি সামরিক যানবাহনের ব্যাপক আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে কৃষিজমি সমতল করা হচ্ছে এবং ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নেওয়া বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে নির্ধারিত ‘হলুদ রেখা’ পশ্চিমে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের অনুমোদিত এলাকাকে পূর্বে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে পৃথক করে।
উত্তর গাজায়ও ইসরায়েলি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। গাজা শহরের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শুজাইয়া ও আল-তুফাহ মহল্লায় সেনাবাহিনী তাদের মোতায়েন করা বাহিনীর দুটি বাড়ি ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

