ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে গুলি করে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হত্যার ঘটনার পর ‘ব্যাপক অভিযান’ শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের অন্তত ১৩টি শহরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে। একই সঙ্গে শত শত ফিলিস্তিনি পরিবারকে বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা
পশ্চিম তীরের নাবলুস, জেনিন, তুবাস ও কালকিলিয়াসহ বিভিন্ন শহর ও জনপদে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। নাবলুসের পাশাপাশি কাছের জালুদ ও কারিউত গ্রামের ফিলিস্তিনিদের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। জেনিনের কাছে আরাবেহ ও বুরকিনে কয়েকজনকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তুবাস ও পাশের আক্কাবা শহরেও প্রবেশ করেছেন ইসরায়েলি সেনারা।
পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলে হেবরনের এইন দেইর বাহা ও আশপাশের এলাকার শত শত ফিলিস্তিনি পরিবারকে অবিলম্বে বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
হেবরনে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার পর সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির বাড়িসহ ফিলিস্তিনিদের বেশ কয়েকটি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শহরের আল-জালদা এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়েছে।
পশ্চিম তীরের পূর্বাঞ্চলে জেরিকো শহর ও কাছের আকাবাত জাবর শরণার্থীশিবিরেও অভিযান চালাতে প্রবেশ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
নেতানিয়াহুর বড় অভিযানের হুমকি
পশ্চিম তীরে ‘ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ’ চালানোর হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার তিনি বলেন, ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলাকারী দুই ফিলিস্তিনি যে এলাকা থেকে এসেছেন, সেখানকার বাড়িঘর পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। পরে হেবরন সফরে গিয়ে তিনি জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা পশ্চিম তীরে অত্যন্ত বড় পরিসরে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
নেতানিয়াহুর ভাষায়, ‘১৯৬৭ সালের পর এমন অভিযান আর চালানো হয়নি।’
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় পশ্চিম তীর দখল করে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ইসরায়েলি বাহিনী হামলাকারীদের এলাকা থেকে অভিযান শুরু করবে। সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়ার পর বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে ‘সন্ত্রাসীদের অবকাঠামো’ ধ্বংস করা হবে।
গাজা ও লেবাননের আদলে অভিযানের দাবি
নেতানিয়াহুর ঘোষণার আগেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ।
শুক্রবার তিনি বলেন, অভিযান চালাতে হবে ‘ঠিক গাজা বা লেবাননের মতো’। তাঁর মতে, সর্বাত্মক সামরিক অভিযান চালানো ছাড়া আর কোনো পথ নেই। এ অভিযানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়া, অস্ত্র সংগ্রহ করা এবং সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার আহ্বান জানান তিনি।
স্মোট্রিচ আরও জানান, হামলাস্থলের আশপাশে সারি সারি স্থাপনা অবিলম্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ও কট্টরপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভিরও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ‘ভেঙে দেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
হেবরনে যেভাবে নিহত হন দুই সেনা
শুক্রবার হেবরনে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিহত দুজন উদ্ধারকারী ব্রিগেডের সদস্য ছিলেন।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিহত দুই সেনার পরিচয় প্রকাশ করে। তাঁরা হলেন স্টাফ সার্জেন্ট রন ইয়োনাতান রয়টম্যান ও সার্জেন্ট ইউভাল শাই স্ভিলেম।
গুলিতে একই ব্যাটালিয়নের আরও তিন সেনা সামান্য আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে। আহত সেনাদের পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এ সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীও নিহত হন।
ইসরায়েলে আগামী মঙ্গলবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে হেবরনে এই হামলার ঘটনা ঘটল।
হামলার প্রশংসা হামাসের
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছিল ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ওই হামলার পর গাজায় সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
হেবরনে শুক্রবারের গুলির ঘটনার প্রশংসা করেছে হামাস। একই সঙ্গে নিহত দুই হামলাকারীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
হামাস তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছে, ‘পুরোপুরি সংগঠিত হোন। আগ্রাসনকারীদের পায়ের নিচের মাটিকে আগুনে পরিণত করুন।’

