ভাইরাল দুবাই চকলেট, যা কুনাফা চকলেট নামেও পরিচিত, তার উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ফিক্স ডেজার্ট জিতে নিয়েছে দুবাই-ইট অ্যাওয়ার্ড। ব্যবসায়িক প্রকল্প বিভাগে এই স্বীকৃতি পেয়েছে স্থানীয় এই ব্র্যান্ড। শনিবার পুরস্কারের ঘোষণা দেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং দুবাইয়ের নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে শেখ হামদান প্রতিষ্ঠানটির দুই প্রতিষ্ঠাতা সারাহ হামুদা ও ইয়েজেন আলানির প্রশংসা করেন। তাঁর ভাষ্য, তাঁরা একটি বাড়িভিত্তিক ব্যবসাকে আন্তর্জাতিক সাফল্যে রূপ দিয়েছেন এবং এমন একটি চকলেট-প্রবণতা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন, যা বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি লেখেন, এটাই দুবাই-ইটের চেতনা, অর্থাৎ ঘরোয়া একটি সাধারণ উদ্যোগকে বৈশ্বিক সাফল্যে পরিণত করা।
পোস্টে তিনি দুবাই-ধাঁচের চকলেটের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন। তাঁর তথ্যমতে, এক বছরে এই চকলেটের বিক্রি বেড়েছে ১ হাজার ২৩৪ শতাংশ। এই প্রবণতায় অনুপ্রাণিত পণ্য এখন বিশ্বের নানা বাজারে এবং ১০০টিরও বেশি বিমানবন্দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, দুবাইয়ে জন্ম নেওয়া একটি মিষ্টিজাত পণ্যের ব্র্যান্ড কীভাবে আন্তর্জাতিক পণ্যের একটি নতুন শ্রেণি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
ফিক্স ডেজার্টের যাত্রা শুরু হয়েছিল দুবাইয়ের একটি বাড়ির রান্নাঘর থেকে। পেস্তা ক্রিম ও মচমচে কুনাফা ভরা চকলেট বার তৈরি করে তারা আন্তর্জাতিক পরিচিতি পায়। মধ্যপ্রাচ্যের পরিচিত স্বাদের এই মিশেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক মনোযোগ কাড়ে। তাদের বিশেষ বারটির নাম ‘ক্যান্ট গেট কুনাফেহ অব ইট’। এই পণ্যের সাফল্যের পর বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা ও চকলেট প্রস্তুতকারক নিজেদের মতো করে দুবাই-ধাঁচের চকলেট তৈরি শুরু করে। দুবাইয়ের বাইরেও ব্র্যান্ডটির উপস্থিতি বেড়েছে। সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর এবং লন্ডনের হ্যারডসে এখন তাদের পণ্য পাওয়া যায়।
দুবাই-ইট অ্যাওয়ার্ড চালু হয়েছে চলতি বছরের জুনে, শেখ হামদানের নির্দেশনায়। দ্রুততা, উৎকর্ষ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে উচ্চাভিলাষী ধারণাকে পরিমাপযোগ্য সাফল্যে রূপ দেওয়া ব্যক্তি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও প্রকল্পকে স্বীকৃতি দিতেই এই পুরস্কার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের চালু করা বৃহত্তর ‘দুবাই-ইট’ উদ্যোগের অংশ এটি। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোকে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করা, যাতে সাহসী ধারণা বাস্তব সাফল্যে রূপ নেয় এবং অর্থনীতি ও সমাজে বৃহত্তর প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি ঘরোয়া রান্নাঘরের পণ্য কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জোরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে, ফিক্স ডেজার্ট তার বড় উদাহরণ। এই স্বীকৃতি দুবাইয়ের উদ্যোক্তা-সংস্কৃতিকে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশটির নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তোলার কৌশলকেও জোরালো করছে। এখন দেখার বিষয়, জনপ্রিয়তার এই ঢেউ কতদিন টিকে থাকে এবং বিশ্ববাজারে নকলের ভিড়ে মূল ব্র্যান্ডটি নিজের আলাদা পরিচয় কতটা ধরে রাখতে পারে।
সূত্র: গালফ নিউজ

