মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া জনমত জরিপগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব জরিপের ফলকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, বাস্তবে তাঁর প্রতি জনসমর্থন প্রায় ৬০ শতাংশ।
শনিবার দ্য ওয়াশিংটন এক্সামিনার-এর সাংবাদিক বাইরন ইয়র্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জনমত জরিপের পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সাক্ষাৎকারে রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকসের বিভিন্ন জরিপের গড় ফল তুলে ধরে তাঁকে জানানো হয়, ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজের প্রতি সন্তুষ্ট। অন্যদিকে ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ নাগরিক অসন্তুষ্ট।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা ভুয়া।’
নিজের প্রকৃত জনসমর্থন কত বলে মনে করেন, ইয়র্কের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জরিপের ফল প্রত্যাখ্যান করেন এবং দাবি করেন, তাঁর জনপ্রিয়তা প্রকাশিত পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা বলছে, আমার কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্টির হার ৩৭ বা ৩৮ শতাংশ?’ এরপর তিনি যোগ করেন, ‘আমি ৩৮ শতাংশে নেই।’
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় না, কেউ আমাকে হারাতে পারবে। আমার মনে হয়, যদি আমার প্রয়োজন হতো, যদিও তা নেই, তাহলে আমার সমর্থন ৬০ শতাংশ হতো।’
নিজের উচ্চ জনসমর্থনের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ট্রাম্প রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে তাঁর শক্ত অবস্থান এবং ‘মাগা’ (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) সমর্থকদের সমর্থনের কথা তুলে ধরেন। তবে জাতীয় পর্যায়ের একাধিক জনমত জরিপে তাঁর কর্মদক্ষতা নিয়ে তুলনামূলক কম সন্তুষ্টির চিত্র উঠে এসেছে।
একাধিক জরিপে সমর্থনের হার ৩০ শতাংশের ঘরে
১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর পরিচালিত রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট ৩৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। বিপরীতে অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ৬৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিউ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালিত জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। তাঁর কর্মদক্ষতায় অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ৬৮ শতাংশ।
এ সপ্তাহে প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের আরেকটি জরিপেও ট্রাম্পের কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্টির হার ৩৪ শতাংশ পাওয়া গেছে। সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জনসমর্থন এতটা নিচে নেমে যাওয়ার সর্বশেষ নজির ছিল ১৯৪৬ সালে। সে সময় প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের প্রতি সমর্থন ছিল ৩৩ শতাংশ।
ট্রাম্পের জরিপের ফল প্রত্যাখ্যানের ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েজউড রিসার্চকে ঘিরে বিতর্ক চলছে। সামাজিক পরীক্ষা চালানোর অংশ হিসেবে মনগড়া জরিপের ফল তৈরি করার কথা স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে ট্রাম্পের কর্মদক্ষতা নিয়ে নিজেদের জরিপের গড় হিসাব তৈরির সময় বিতর্কিত ওই জরিপগুলো ব্যবহার করা হয়নি বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
মাগা সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বেশি
নিজের জনপ্রিয়তার দাবির পক্ষে ট্রাম্প সিএনএনের প্রধান তথ্য বিশ্লেষক হ্যারি এনটেনের একটি বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করেন। ওই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ‘মাগা’ সমর্থক রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন প্রায় ১০০ শতাংশের কাছাকাছি।
এনটেনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাগা সমর্থক রিপাবলিকানদের ৯৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন ট্রাম্প। গত সেপ্টেম্বরে এই গোষ্ঠীর মধ্যে তাঁর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৯৮ শতাংশ।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখন আমার সমর্থন ৬০ শতাংশের ঘরে থাকবে। রিপাবলিকান পার্টিতে আমার সমর্থন অনেক বেশি। তাঁকে ৯৯ শতাংশের হিসাবটা দেখান। এটা কি দেখেছেন?’
তবে এনটেনের বিশ্লেষণে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির বিষয়ে ভিন্ন চিত্রও উঠে এসেছে। মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির হারের ব্যবধান ২০২৪ সালে ট্রাম্পের পক্ষে ৮ পয়েন্ট ছিল। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সেই ব্যবধান কমে ঋণাত্মক ৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
এ সপ্তাহে রয়টার্স/ইপসোসের একটি জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ৩১ শতাংশে নেমে আসার পর এনটেন প্রেসিডেন্টের জনসমর্থনের পরিস্থিতিকে ‘ট্রাম্পের জন্য পাঁচ মাত্রার ভয়াবহ বিপর্যয়’ বলে বর্ণনা করেন। তাঁর দুই মেয়াদের মধ্যে এটিই জনসমর্থনের সর্বনিম্ন রেকর্ড বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন প্রতিকূল পরিসংখ্যানের মধ্যেও রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে নিজের জনপ্রিয়তা তুলে ধরা জরিপের জন্য এনটেন ও সিএনএনের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘আমাকে নিয়ে তারা বেশ কিছু ভালো জরিপ করেছে, এটা বলতেই হবে। সিএনএন যদি এ ধরনের জরিপ চালিয়ে যায়, তাহলে তাদের আরও বেশি পছন্দ করব।’
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন এক্সামিনার, রয়টার্স/ইপসোস, পিউ রিসার্চ সেন্টার, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন

