অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসে শল্যচিকিৎসক হাত নাড়ছেন আর প্রায় সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার দূরে চীনের সাংহাইয়ের একটি হাসপাতালে চলছে অস্ত্রোপচার। কল্পবিজ্ঞানের মতো শোনালেও দূরনিয়ন্ত্রিত রোবটের সাহায্যে আন্তমহাদেশীয় অস্ত্রোপচারের এই সফল পরীক্ষা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।
সোমবার অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
সিডনির ‘ক্রিস ওব্রায়েন লাইফহাউস’-এ বসে এই অস্ত্রোপচারের পরীক্ষা পরিচালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক রুবেন থানাগাসালম। তিনি সিডনিতে অবস্থান করে সাংহাইয়ে রাখা একটি কৃত্রিম কিডনি কেটে পুনরায় নিখুঁতভাবে সেলাই করেন।
এই পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয় সর্বাধুনিক ‘টুমাই’ নামের একটি বিশেষ রোবট। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয় অতিদ্রুতগতির ফাইভ-জি ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। চিকিৎসক সিডনিতে বসে যেভাবে হাত পরিচালনা করেছেন, সাংহাইয়ের রোবটের হাতও সেই নির্দেশনা অনুযায়ী একই গতিতে কাজ করেছে। দৃশ্যমান কোনো বিলম্ব বা সংযোগ বিচ্ছিন্নতা ছাড়াই অস্ত্রোপচারের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলক অস্ত্রোপচারটি সফল হয়েছে। তাদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে দূরবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী রোগীদের জন্য জটিল অস্ত্রোপচারের সুযোগ বাড়াতে পারে।
আয়তনে বিশাল অস্ট্রেলিয়ায় প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের রোগীদের জটিল চিকিৎসা নিতে প্রায়ই সিডনির মতো বড় শহরে যেতে হয়। রোবটনির্ভর দূরবর্তী অস্ত্রোপচারসেবা এসব অঞ্চলে চালু করা গেলে রোগীরা নিজেদের এলাকার হাসপাতালেই বসে বিশেষজ্ঞ শল্যচিকিৎসকের সেবা পেতে পারেন। এতে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে।
শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, প্রযুক্তিটি কার্যকরভাবে চালু করা গেলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এর ব্যবহার সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে যেখানে অভিজ্ঞ শল্যচিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে কিংবা বড় চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন, সেখানে দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রোপচার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের দূরবর্তী অস্ত্রোপচারের পরীক্ষা এটিই প্রথম বলে জানানো হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই পরীক্ষাগারের বাইরে সরাসরি রোগীর শরীরে এই রোবোটিক অস্ত্রোপচার শুরু করা সম্ভব হবে।

