সৌদি আরবের ওপর হামলা বন্ধ ও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ইরানের মাধ্যমে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে রিয়াদ, এমন দাবি করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত এই তথ্য মঙ্গলবার ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনেও এসেছে। তবে অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি কোনো সৌদি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেননি, আর স্বাধীনভাবেও এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান সম্প্রতি তেহরান সফর করেন। এক কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, তিনি নিজের হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে করে ওই ১০০ কোটি ডলার তেহরানে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
তেহরানের আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মহসেন রেজাই। এ ছাড়া ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তারাও ছিলেন। সৌদি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হুথিদের একের পর এক হামলায় দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এ প্রেক্ষাপটেই ইরান মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সরকারি বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফর চলমান সংকটের পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানো, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানকে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টার অংশ। একই সঙ্গে কাতার ও পাকিস্তানের পরিচালিত মধ্যস্থতা উদ্যোগকে সমর্থন জানানোও এর উদ্দেশ্য। বিবৃতিতে জোটটিকে ন্যাটোর ধাঁচের জোট হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা এক সৌদি কর্মকর্তা অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবে তিনি জানান, তিন বছর আগে হওয়া একটি সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়েই সংঘাতের মূল কারণ। ওই সমঝোতায় হুথি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সরাসরি আর্থিক সহায়তার কথা ছিল। বিনিময়ে হুথিদের হামলা বন্ধ রাখার কথা। হুথিরা সৌদি আরবকে অঙ্গীকার ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত করছে। অন্যদিকে রিয়াদের অবস্থান হলো, সামরিক চাপ বা ব্ল্যাকমেইলের মুখে তারা নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে যাবে না।
এই বৈঠককে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট ও ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক বলা হচ্ছে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের তেহরান সফরের সময় এর রূপরেখা তৈরি হয়।
এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়। সৌদি সরকারি বিবৃতিতে কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা বলা হলেও অর্থ প্রস্তাবের প্রসঙ্গ নেই। আর অর্থ দেওয়ার দাবিটি এসেছে নামহীন কূটনৈতিক সূত্র থেকে, যা ইসরায়েলি গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত। তাই দাবিটি যাচাইয়ের আগে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে ধরা ঠিক হবে না। তবে ইরান, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের শীর্ষ পর্যায়ের এমন সমাবেশ প্রমাণ করে, ইয়েমেন সংকট নিয়ে আঞ্চলিক কূটনীতি এখন বেশ সক্রিয়। সমঝোতা বাস্তবে কতটা টেকে এবং হুথিদের হামলা থামে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

