স্পেনে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। স্প্যানিশ গণমাধ্যমকে তাঁরা এ তথ্য জানিয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁদের চিকিৎসা চলছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি
দুর্ঘটনার পর দেশজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, “আজ পুরো স্পেন শোকাচ্ছন্ন।”
দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি স্থাপিত জরুরি সহায়তা কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, “অনেক জীবন চুরমার হয়ে গেছে, পরিবারগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছে; এই যন্ত্রণা অপরিসীম।”
উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার, ছড়িয়ে পড়েছে ধ্বংসস্তূপের ছবি
স্পেনের সিভিল গার্ড প্রকাশিত ড্রোনের ছবিতে দুর্ঘটনাস্থলে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতার চিত্র দেখা গেছে। লাইনচ্যুত ট্রেনের বগিগুলোর চারপাশে অসংখ্য গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার ও হাসপাতালে নেওয়ার কাজে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাস্থলে মাটিতে শুয়ে থাকা আহত ব্যক্তিদেরও দেখা গেছে।
দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি ট্রেনে ৫০০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন বলে প্রকাশিত ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রেনের বগিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও সামনে এসেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যাচাই করা ভিডিওতে যা দেখা গেছে
দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও যাচাই করেছে বিবিসি ভেরিফাই। যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশের ঢালে উল্টে পড়ে আছে।
ভিডিওতে ট্রেনের সামনের দিকের একটি বগি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে হয়। বগিটির চারপাশে ভাঙা অংশ ছড়িয়ে রয়েছে। সেখানে জরুরি সেবার একাধিক গাড়ি এবং উদ্ধারকর্মীদেরও দেখা গেছে।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের পর্যালোচনা করা আরেকটি ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, রেললাইনের একটি লম্বা ধাতব পাত দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের একটি বগি ভেদ করে ছাদ দিয়ে বেরিয়ে রয়েছে। ছাদের বাইরে বেরিয়ে থাকা অংশটি প্রায় ১০ মিটার লম্বা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কীভাবে রেললাইনের ওই অংশ বগির ভেতরে ঢুকে ছাদ ভেদ করেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ট্রেন চলাচল বন্ধ, স্টেশনে অপেক্ষায় যাত্রীরা
দুর্ঘটনার পর স্পেনের মাদ্রিদ, সিউদাদ রিয়াল ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রেল সংস্থা রেনফে।
প্রকাশিত ছবিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সেভিয়ার সান্তা হুস্তা রেলস্টেশনে বহু যাত্রীকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় তাঁদের যাত্রায় বিঘ্ন ঘটেছে।
এদিকে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া এবং দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। তবে ট্রেন দুটি কীভাবে সংঘর্ষে জড়াল, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ কী এবং এর জন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা পরিচালনাগত সমস্যা দায়ী কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

