যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারে নেমে পরস্পরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় ক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে দিতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে কয়েক সপ্তাহ ধরে জোর প্রচার চালাচ্ছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর মেয়াদের শেষ দুই বছরে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে রিপাবলিকান শিবিরে। তাই দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে সক্রিয় হয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে গত সপ্তাহ পর্যন্ত জনসমক্ষে তুলনামূলক কম সক্রিয় থাকলেও সম্প্রতি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একের পর এক কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন ওবামা। ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে নেমে তিনি বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করছেন।
বুধবার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার কাছে মরো শহরে এক নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন ওবামা। সেখানে তিনি ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক কলিন্সের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন অসফ।
সমাবেশে ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন ওবামা। তাঁর মতে, এবারের নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক মূল্যবোধের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় আটলান্টায় সমাহিত নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের স্বপ্নের কথাও স্মরণ করেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ওবামা বলেন, “আমাদের সামনে এখন যেসব সিদ্ধান্ত রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে নৈতিকতারও সম্পর্ক আছে। মিথ্যা বলা, প্রতারণা করা ও অন্যকে ভয় দেখানো যদি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, আর অর্থই যদি মানুষের মূল্য বিচারের একমাত্র মাপকাঠি হয়, তাহলে ভেঙে পড়া ব্যবস্থা ঠিক করা বা অর্থনীতিতে ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।”
জনসমর্থনের চাপেও সক্রিয় ট্রাম্প
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের অসন্তোষ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে ট্রাম্পের জনসমর্থনেও। তাঁর প্রতি সমর্থনের হার প্রায় রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
তবে জনসমর্থনের এই চাপ সত্ত্বেও রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ট্রাম্পের প্রভাব এখনো গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় ভোটারদের মধ্যে তাঁর শক্ত অবস্থান কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে বেশি ভোট নিশ্চিত করতে চাইছেন তিনি।
অন্যদিকে ওবামার সাম্প্রতিক প্রচার ডেমোক্র্যাট শিবিরকে উজ্জীবিত করার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগুলোকে নির্বাচনী বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
ফলে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন কেবল কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ট্রাম্পের নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক নীতি, ইরান যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মূল্যবোধ নিয়েও ভোটারদের মনোভাবের প্রতিফলন ঘটতে পারে এই নির্বাচনে।
সূত্র: রয়টার্স

