যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে আবারও সামরিক সংঘাতে জড়াতে পারে ওয়াশিংটন। এমন আশঙ্কায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসরত বিদেশি নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সম্ভাব্য হামলা, বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না করার কথা জানালেও নির্বাচনের পর কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা স্পষ্ট করেননি।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সংঘাত আবার শুরু হওয়ার আশঙ্কা কাটছে না। ওয়াশিংটনের অস্পষ্ট অবস্থান এবং তেহরানের কঠোর সামরিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। ফলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে বসবাসকারী মানুষ সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সৌদি আরবে বসবাসরত ৩৬ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিক সিএনএনকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের আচরণে সতর্কতা বেড়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর ভাষায়, সবাই এখন অনেকটা অপেক্ষার মধ্যে রয়েছেন। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন।
যুদ্ধের আট মাসেও কাটেনি অচলাবস্থা
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক হামলা চালালে সংঘাতের সূচনা হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। চলতি সপ্তাহে সংঘাত অষ্টম মাসে প্রবেশ করেছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সামরিক ও কূটনৈতিক কোনো ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনো ইরানে নতুন হামলার হুমকি দিচ্ছেন, আবার কখনো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আগ্রহ প্রকাশ করছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত লক্ষ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ইরানও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি করছে। দেশটির কর্মকর্তাদের বক্তব্য, আগের তুলনায় এখন আরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই ইরানে হামলা চালাবে না। তবে নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান আবার শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো নিশ্চয়তা দেননি। এই অনিশ্চয়তাই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
গত শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনার বিষয় ছিল ইরান। তবে রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাননি। শুধু বলেছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর খুব ভালো আলোচনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক হাসান আলহাসান সিএনএনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বক্তব্য পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করছে। তবে এসব বক্তব্যের কোনটি কৌশলগত চাপ এবং কোনটি সত্যিকারের সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি
নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ার আরেকটি কারণ হলো ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সাম্প্রতিক নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন হারালেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের আলোচনা আগামী সপ্তাহে জোরালো হওয়ার কথা। বিরোধী দলগুলো দ্রুত তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা গত এক মাসে ধারাবাহিকভাবে নতুন অস্ত্রের মজুত ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা জানিয়ে আসছেন। তেহরানের উদ্দেশ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের সামরিক শক্তি সম্পর্কে সতর্ক করা।
ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে শুধু তেল স্থাপনাই নয়, এ অঞ্চলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামোও রয়েছে। তাঁর ভাষায়, সংঘাত আবার শুরু হলে সেটি দীর্ঘস্থায়ী এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির যুদ্ধ হতে পারে।
গত শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নতুন কোনো হুমকি এলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি সামরিক প্রস্তুতিতে নিজের সক্রিয় ভূমিকার বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাড়ছে সতর্কতা
উপসাগরীয় দেশগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মী বসবাস করছেন। করমুক্ত আয়, উন্নত জীবনযাত্রা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে তাঁরা এসব দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক সংঘাতের বাইরে তুলনামূলক নিরাপদ জীবন কাটালেও চলতি বছরের যুদ্ধ সেই ধারণায় পরিবর্তন এনেছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান উপসাগরীয় বিভিন্ন শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে শিক্ষা কার্যক্রম, বিমান চলাচল ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। হতাহতের ঘটনাও ঘটে। এরপরও অনেক বিদেশি নাগরিক দেশগুলোতে অবস্থান করছেন। তাঁদের অনেকে মনে করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর শক্তিশালী সামরিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তাঁদের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম।
আবুধাবিতে বসবাসরত ৩৬ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক মিশেল সিএনএনকে বলেন, তিনি আবারও যুদ্ধের পরিস্থিতি দেখতে চান না। আগে নিজেকে সেখানে নিরাপদ মনে করলেও নতুন করে হামলা শুরু হলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
চলতি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের নীরবে দেশ ছাড়ার খবরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেক পরিবারকে চলে যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তবে তাঁদের সন্তানদের স্কুলে সহপাঠীদের বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে বিষয়টি সামনে আসে। এর আগে মার্চে যুদ্ধের তীব্রতার সময়ও কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁদের কেউ কেউ আবার ফিরে এসেছিলেন। ফলে নতুন করে চলে যাওয়ার ঘটনা অনেকের কাছে আগের সংকটের পুনরাবৃত্তি বলে মনে হচ্ছে।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। এটিও সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সৌদি আরবেও পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা রয়েছে। ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বাড়ার পর দেশটির কয়েকটি বড় আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় দূরশিক্ষণ কার্যক্রমও চালু রয়েছে।
সৌদি আরবে বসবাসরত এক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, তাঁর পরিচিত অনেকেই নভেম্বর মাসের জন্য আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষ করে বড়দিনের ছুটির সময় বিমান চলাচল ব্যাহত হতে পারে বলে অনেকে উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতিকে তিনি করোনাকালীন সময়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনেও নিরাপত্তা উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও ব্যবসায়িক আয়োজনের প্রস্তুতি চললেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আবুধাবিতে মে মাসের পর নতুন কোনো হামলার ঘটনা না ঘটলেও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি তেল কোম্পানি তাদের কর্মকর্তাদের একটি বড় জ্বালানি সম্মেলনে পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
তবে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ডিএমজি জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত সময়েই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ থাকবে এবং দেশটির ১২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান প্রদর্শনীতে অংশ নেবে। আয়োজকদের ধারণা, সম্মেলনে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন।
অন্যদিকে এ বছরের সংঘাতে ইরানের হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি বাহরাইন। দেশটির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের মানসিক প্রভাব এখনো তাঁদের মধ্যে রয়েছে। ২১ বছর বয়সী ফাওয়াজ সিএনএনকে বলেন, বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শুনলে এখনো ভয় কাজ করে। বিশেষ করে রাতে বাইরে বিস্ফোরণের শব্দ হলে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে।
কূটনৈতিক আলোচনায় এখনো আশার আলো
সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা থাকলেও গত এক সপ্তাহে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাইকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ইরানের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চিঠিটি বর্তমানে পর্যালোচনা করছে তেহরান।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের অনুরোধের সঙ্গে চিঠিটির সম্পর্ক রয়েছে। তবে এ যোগাযোগ নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এদিকে কাতারের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের কর্মকর্তারা আলোচনার জন্য কাতারে অবস্থান করছেন। যুদ্ধের শুরু থেকেই কাতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে শনিবারের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়া ও ইরাকবিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক সিএনএনকে বলেছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে পারে। তাঁর মতে, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এর জন্য পারস্পরিক আস্থা এবং কে আগে পদক্ষেপ নেবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ থাকলে ওয়াশিংটন তাতে আগ্রহী। তবে কোনো সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তাদের উদ্বেগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না।
অন্যদিকে ইরানের কর্মকর্তারা আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাঁদের আস্থার অভাব রয়েছে। অতীতে আলোচনার সময়ও ইরানে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তেহরানের অভিযোগ। তাই নতুন কোনো সমঝোতা হলেও তা সামরিক অভিযান বন্ধের নিশ্চয়তা দেবে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের কাছে ইরানের সাতটি শর্ত স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। এসব শর্তে সম্মতি ছাড়া কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে তাঁর দাবি।
ফলে মধ্যপ্রাচ্য এখন একদিকে সম্ভাব্য নতুন সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ওয়াশিংটন কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর আগামী দিনের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে।

