যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ৩০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে অঙ্গরাজ্যটিতে হামের সংক্রমণসংশ্লিষ্ট এটিই প্রথম মৃত্যু। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ ও লুইস কাউন্টি পাবলিক হেলথ সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারণে লুইস কাউন্টিতে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিবৃতিতে এই মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং শিশুটির পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে পরিবারটির ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ করা হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে এর বেশি কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
নিউইয়র্ক ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর গভর্নর ক্যাথি হোকুল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঘোষণার এক মাস পর এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত নিউইয়র্কে হামে আক্রান্ত হওয়ার ১৭৮টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতেই আক্রান্ত হয়েছেন আটজন।
জরুরি অবস্থার আদেশ অনুযায়ী, নিবন্ধিত নার্সরা হামে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারবেন। গত বছর থেকে হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করার পর কোনো অঙ্গরাজ্যে প্রথমবারের মতো এ ধরনের জরুরি আদেশ জারি করা হলো।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়েও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশটির সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০টির বেশি হামের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির প্রায় সব অঙ্গরাজ্যেই সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। ১৯৯১ সালের পর এ বছরই যুক্তরাষ্ট্রে হামে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ। চলতি বছর হামে আক্রান্তদের অন্তত ৯৬ শতাংশই টিকা নেননি অথবা তাঁদের টিকা নেওয়ার তথ্য জানা নেই।
সিডিসি জানিয়েছে, হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে কাশি, নাক দিয়ে পানি ঝরা, ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর এবং চোখ লাল হয়ে পানি পড়া। লক্ষণ দেখা দেওয়ার দুই থেকে তিন দিন পর রোগীর মুখের ভেতরে, গালের অভ্যন্তরীণ অংশে ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা দিতে পারে, যা কপলিক স্পট নামে পরিচিত।
প্রতিরোধের উপায় হিসেবে সিডিসি সবাইকে এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকার দুই ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রথম ডোজ ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ৪ থেকে ৬ বছর বয়সের মধ্যে দিতে হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এমএমআর টিকার এক ডোজ হাম প্রতিরোধে ৯৩ শতাংশ এবং দুই ডোজ ৯৭ শতাংশ কার্যকর। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ প্রাদুর্ভাবের এলাকায় বসবাসকারী বা সেখানে ভ্রমণকারী ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুরা আগাম তৃতীয় ডোজ এমএমআর টিকা নিতে পারবে।

