ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিরোধী দলগুলোর নেতারা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তেল আবিবের উত্তরে হার্জলিয়ায় পাঁচটি বিরোধী দলের নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
গত ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের পর এটিই ছিল বিরোধী নেতাদের প্রথম যৌথ বৈঠক। নির্বাচনে ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। বিরোধী দলগুলোর আসন ৪৮টি। অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।
পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব কে পাবে, তা নিয়ে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরুর এক দিন আগে বিরোধী নেতারা আইজেনকোটকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিলেন।
বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বিরোধী নেতারা জানান, তাঁদের সব দল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করবে। একই সঙ্গে নতুন সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনার খসড়া তৈরি এবং জোট গঠনের চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে দলগুলোর প্রতিনিধিদের দ্রুত কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দলীয় নেতারা পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছেন। ৭ অক্টোবরের (২০২৩) হামলার পর থেকে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহু সরকারকে সরিয়ে একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনে তাঁরা অবিলম্বে পদক্ষেপ নেবেন।
বৈঠকে আইজেনকোটের পাশাপাশি অংশ নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, ইসরায়েল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যান, ডেমোক্র্যাটস দলের ইয়ার গোলান এবং ইয়েশ আতিদ দলের নেতা ইয়ার লাপিদ।
আইজেনকোটের প্রস্তাবিত চারটি মূলনীতিতেও একমত হয়েছেন বিরোধী নেতারা। এর মধ্যে রয়েছে, নতুন সরকারের সব দল ইসরায়েলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে এবং ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করবে।
এসব শর্তের কারণে আরব নেতৃত্বাধীন কয়েকটি দলকে জোটের বাইরে রাখার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অথচ পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য বিরোধীদের আরব দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। ফলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হলেও নতুন সরকার গঠনের সমীকরণ এখনো জটিল।
বৈঠকের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের হাতে সময় নেই। অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

