যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলতি বছরের শেষ থেকে ইসরায়েলকে আর সামরিক সহায়তা দেবে না ওয়াশিংটন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে কয়েক মাস আগেই সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
টেলিফোনে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলার দেওয়ার বিষয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর একটি চুক্তি হয়েছে। কয়েক মাস আগেই তাঁরা এই সহায়তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, এতে ইসরায়েলের কোনো সমস্যা হবে না, কারণ দেশটি এখন যথেষ্ট সফল এবং তাদের এই অর্থের প্রয়োজন নেই। যুক্তরাষ্ট্রও আর ইসরায়েলকে অর্থ দেবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘কাজেই এটা শুধুই অর্থের অপচয়। কারণ, আমরা আগেই একমত হয়েছি যে এই বছরের শেষ থেকে আমরা ইসরায়েলকে আর টাকা দিচ্ছি না।’
তবে ইসরায়েলের প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে সহায়তা করবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, ইসরায়েল একটি দারুণ মিত্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রও বিশ্বের সেরা মিত্র।
যুক্তরাষ্ট্র অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ইসরায়েলকে সবচেয়ে বেশি সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। তবে দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, এই সহায়তার বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ব্যয় করতে হয়।
ট্রাম্পের ঘোষণার সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির তথ্যের বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার বর্তমান ১০ বছর মেয়াদি চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরের আগে শেষ হওয়ার কথা নয়। ওই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল প্রতিবছর ৩৮০ কোটি ডলার পেয়ে থাকে।
নেতানিয়াহু অবশ্য প্রকাশ্যে একাধিকবার ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে কথা বলেছেন। তবে তাঁর প্রস্তাব ছিল আগামী এক দশকে ধাপে ধাপে এই সহায়তা থেকে সরে আসা। ট্রাম্পের ঘোষণার মতো হঠাৎ করে সব সহায়তা বন্ধ করার কথা তিনি বলেননি।
ট্রাম্প তাঁর সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে বলেছেন, ইসরায়েলও সহায়তা বন্ধের এই নীতিকে সমর্থন করে। তবে মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন সকালে দেওয়া তাঁর এই ঘোষণা দেশটির দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যেই ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে জনসমর্থন কমে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ট্রাম্পের আকস্মিক ঘোষণায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বছরের শেষ নাগাদ মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁরা আগে থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাননি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লার এক প্রতিবেদনে একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সহায়তা বন্ধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নথি পাঠানো হয়নি। ওই কর্মকর্তা জানান, সহায়তা বন্ধ করার পরিকল্পনার কথা মন্ত্রণালয় জানত। কিন্তু এত দ্রুত এবং বছরের শেষ থেকেই তা কার্যকর করার সিদ্ধান্তে তাঁরা বিস্মিত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নাম প্রকাশ না করে দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রকাশ করেছে। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, মার্কিন সহায়তা বন্ধ হলে ইসরায়েলের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, দুই বছরের সহায়তা হারানোর অর্থ হলো ৮০০ কোটি ডলারের ঘাটতি তৈরি হওয়া। এই অর্থের বিকল্প উৎস হিসেবে শেষ পর্যন্ত নাগরিকদের কাছ থেকেই কর আদায় করতে হবে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের বিষয়ে শিগগিরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

