ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং ভারতের এক দম্পতির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে স্থল, সমুদ্র কিংবা আকাশপথে ইরান সরকারকে সহায়তা অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন এসব নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপ করা হয়েছে। এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য ইরান যাতে তেল বিক্রি করতে না পারে, সেই সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের এক দিন পর নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এল। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। ইরান যুদ্ধ এবং এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনের ফলাফলে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের বিনিময়মূল্য নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।
ভারতীয় দম্পতি ও একাধিক প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞার আওতায়
বুধবার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞায় ভারতের নাগরিক সুনীল কুমার শর্মা এবং তাঁর স্ত্রী জাসপ্রিত প্রীতি শহিদকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাঁদের দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আরও দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শর্মার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও নয়টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এই গোষ্ঠীকে একটি ‘বিস্তৃত অপরাধী চক্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, এই চক্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজগুলোকে ইরানি পেট্রোলিয়াম পরিবহনে সহায়তা করতে ভুয়া পতাকা ও নথিপত্র সরবরাহ করেছে। এসব জাহাজের মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর হয়ে পরিচালিত জাহাজও রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভুয়া পতাকা ও সামুদ্রিক সনদ ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলতে পারে। এসব জাহাজের ক্ষতিপূরণমূলক বিমাও থাকে না। ফলে অন্য দেশের জলসীমায় চলাচলের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতিতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তুরস্কের বিমান চলাচল প্রতিষ্ঠানও নিষেধাজ্ঞায়
ইরানের বিমান চলাচল খাতকে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে তুরস্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি দেশটির বিমান চলাচল খাতকে সহযোগিতা করেছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, তেহরানকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা জানি আপনারা কোথায় আছেন। স্থলপথ, সমুদ্রপথ কিংবা আকাশপথে যারা ইরানি শাসনব্যবস্থাকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।”
অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রেট এরিকসন মনে করেন, বুধবারের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে। তাঁর মতে, নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা খেলেও ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর নীতি থেকে সরে আসছে না ওয়াশিংটন।

