যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদে। গতকাল বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর মাত্র এক দিনেই তাঁর সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার কমে ৮০০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে দরপতনের মধ্যে টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কমে যাওয়াই এই ক্ষতির মূল কারণ।
ফোর্বসের হিসাবে, বৃহস্পতিবার বিকালে মাস্কের সম্পদের মূল্য ৯ শতাংশের বেশি কমে যায়। এক মাসেরও কম সময় আগে তিনি এক ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হয়েছিলেন। সেই অবস্থান থেকে তাঁর সম্পদ আবার ৮০০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এল। এত বড় ধাক্কার পরও অবশ্য বিশ্বের শীর্ষ ধনীর অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।
নির্বাচনের পর বৃহস্পতিবার টেসলার শেয়ারের দাম ১১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে গেছে। এতে কোম্পানিটির শেয়ার আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কমেছে ৮ শতাংশ। মহাকাশযান নির্মাতা এই প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধেক মালিকানা মাস্কের হাতে।
এর আগের দিন বুধবারও নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কমেছিল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন মাস্কের সম্পদ প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার কমে দাঁড়িয়েছিল ৮৬৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে। বৃহস্পতিবারের দরপতনে সেই ক্ষতি আরও বড় হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর টানা দুই দিনে তাঁর সম্পদ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
নির্বাচনে রিপাবলিকানরা বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এ পরিস্থিতিতে মাস্কের ব্যবসা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কংগ্রেসের নজরদারি ও তদন্ত বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কা শেয়ারবাজারে প্রভাব ফেলেছে।
এই নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রায় ৪৪৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন মাস্ক। কিন্তু তাঁর সমর্থন পাওয়া অনেক প্রার্থীই হেরে গেছেন। টেক্সাসেও রিপাবলিকানরা বড় ধাক্কা খেয়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন, আর সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন জেমস তালারিকো।
টেক্সাসে টেসলা ও স্পেসএক্সের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম রয়েছে। তাই রাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতায় আসা এবং কংগ্রেসে দলটির প্রভাব বাড়ার বিষয়টি মাস্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ, সরকারি চুক্তি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক কার্যক্রমে নজরদারি আগের চেয়ে বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবারের এই দরপতনে শুধু মাস্ক নন, প্রযুক্তি খাতের আরও কয়েকজন শীর্ষ ধনকুবেরের সম্পদও কমেছে। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ডেল টেকনোলজিসের প্রধান মাইকেল ডেলের সম্পদ কমেছে ১৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসনের কমেছে ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। আর মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের সম্পদ কমেছে ৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন যে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাত ও শীর্ষ ধনীদের সম্পদে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে, এই ঘটনা তারই উদাহরণ। তবে শেয়ারবাজারের এ ধরনের প্রতিক্রিয়া সাময়িক হতে পারে। কংগ্রেসের নজরদারি বাস্তবে কতটা বাড়ে এবং তার প্রভাব মাস্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে কীভাবে পড়ে, তার ওপরই নির্ভর করবে সামনের দিনগুলোতে টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের গতিপথ।

