ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ সম্প্রসারণ করে দেশটির স্থলসীমান্তকেও এর আওতায় আনার মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকে ‘শুধুই শব্দের খেলা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তেহরানের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতি ধসিয়ে দেওয়ার মার্কিন লক্ষ্য অর্জিত হবে না। সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে রোববার (৮ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র সারদার মোহেবি বলেন, “এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। তাদের লক্ষ্য হলো, ইরানের অর্থনীতিকে ধসিয়ে দেওয়া এবং দেশটির ওপর কঠোর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।”
তিনি আরও বলেন, “এর আগে ওয়াশিংটন দাবি করেছিল, দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়বে। কিন্তু আমরা দেখেছি, তেমনটি ঘটেনি।”
স্থলপথে সরবরাহ বন্ধে মার্কিন উদ্যোগ
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের ‘আয়রন গেট’ টাস্কফোর্স ইরানের স্থলপথে সরবরাহ রুটগুলোতে বাধা সৃষ্টি করবে এবং অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের চলাচল বন্ধে কাজ করবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইরানের ওপর চলমান অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও বাড়াতে চায় ওয়াশিংটন। সমুদ্রপথের পাশাপাশি স্থলসীমান্ত দিয়ে পণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের পথও সীমিত করার পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
ইরানের সঙ্গে সাতটি দেশের স্থলসীমান্ত রয়েছে। দেশগুলো হলো ইরাক, তুরস্ক, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান। এ ছাড়া দেশটির উত্তরে রয়েছে কাস্পিয়ান সাগর।
ফলে ইরানের স্থলসীমান্ত ও আঞ্চলিক সরবরাহ রুটগুলো নিয়ন্ত্রণের মার্কিন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশটির প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে আইআরজিসির বক্তব্যে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পরিকল্পনাকে তেহরান অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির আরেকটি প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছে। ওয়াশিংটনের অবরোধ কৌশল শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়, তা এখন দেখার বিষয়।

