পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রভাগের রহস্য আরও গভীর হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, এই কঠিন ধাতব বলসদৃশ কেন্দ্রের আকৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে।
এর পূর্বে জানা গিয়েছিল, অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রটি পৃথিবীর অন্যান্য অংশের তুলনায় উল্টো দিকে ঘুরছে। এবার নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, গত দুই দশকে কেন্দ্রের আকৃতিতেও বিকৃতি ঘটেছে, যা ভূমিকম্পের তরঙ্গে শনাক্ত করা গেছে।
এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় ভূ-কেন্দ্রে গত কয়েক দশক ধরে চলা ঘূর্ণনের প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। নতুন গবেষণায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি-অঘূর্ণয়নশীল পরিবর্তনের বিষয় উঠে এসেছে। এটি আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। আমি মনে করি, এটি পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগের ঘূর্ণন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিতর্ক আরও উসকে দেবে।
ইয়োশি মিয়াজাকি, নিউ জার্সির রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক
গবেষণাটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার জিওসায়েন্সে। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক জন ভিদেল ও তাঁর সহকর্মীরা ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই স্থানে সংঘটিত ভূমিকম্পের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
বিজ্ঞানীরা জানান, পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কেন্দ্র কঠিন ধাতবের তৈরি, যার চারপাশ ঘিরে রয়েছে তরল ধাতব স্তর। গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০১০ সালের শুরুর দিকে অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রের ঘূর্ণনের গতি ধীর হয়ে আসে এবং এখন এটি উল্টো দিকে ঘুরছে। এ পরিবর্তন চৌম্বকমণ্ডলের শক্তির উৎস সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে, যা আমাদের গ্রহকে সৌর বিকিরণ থেকে সুরক্ষিত রাখে।
নিউ জার্সির রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ইয়োশি মিয়াজাকি বলেন, ‘নতুন গবেষণাটি অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রের বিকৃতি সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আরও গভীর করবে।’
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রের পরিবর্তন পৃথিবীর গঠন ও চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের বিকাশ সম্পর্কে আরও গভীর তথ্য উন্মোচন করতে পারে।

