মধ্যে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে পাকিস্তান। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের ভূমিকা বিভিন্ন দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রশংসা কুড়িয়েছে।
শান্তি চুক্তির ঘোষণার পর বিশ্বনেতারা মনে করছেন, এই সমঝোতা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ উদ্যোগকে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এই চুক্তি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানি এবং নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেছে। তাদের অভিমত, এই সমঝোতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনার জন্য নতুন পথ খুলে দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের শুরু থেকে পাকিস্তান উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করেছে। যুদ্ধরত দুই পক্ষকে একই আলোচনার কাঠামোর মধ্যে আনা সহজ কাজ ছিল না। তবে ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান বাস্তবতায় এই চুক্তি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর সেই কারণেই শান্তি প্রতিষ্ঠার এ প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকা এখন আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।

