দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে সাপের বিষ শরীরে গ্রহণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টিম ফ্রিড। এ পর্যন্ত তিনি ২০০ বারের বেশি সরাসরি সাপের কামড় সহ্য করেছেন এবং ৭০০ বারের বেশি ইনজেকশনের মাধ্যমে নিয়েছেন গোখরা, মাম্বা, ক্রেইট, তাইপানসহ পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সাপগুলোর বিষ।
তার এই আত্মবিসর্জনমূলক প্রচেষ্টা এখন চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, টিম ফ্রিডের রক্তে এমন অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে যা মারাত্মক সাপের বিষ প্রতিহত করতে সক্ষম এবং পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন প্রাণীকে বিষাক্ত ডোজ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমানে প্রচলিত অ্যান্টিভেনম নির্দিষ্ট প্রজাতির সাপের জন্যই কার্যকর, অর্থাৎ সঠিকভাবে শনাক্ত না হলে অনেক সময় চিকিৎসা কার্যকর হয় না। কিন্তু ফ্রিডের শরীরে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি ভবিষ্যতে ‘সার্বজনীন অ্যান্টিভেনম’ তৈরির সম্ভাবনা জাগিয়েছে, যা একাধিক সাপের বিষ প্রতিহত করতে পারবে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।
টিম ফ্রিড পেশায় এক সময় ছিলেন ট্রাক মেকানিক। পরে সাপের বিষ নিয়ে গবেষণাই হয়ে ওঠে তার নেশা ও জীবনের উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, আমি মারা যেতে চাইনি, আঙুল হারাতে চাইনি। আমি এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতির পথ খুঁজতে চেয়েছিলাম- যা মানুষকে বাঁচাবে।
তার এই আত্মোৎসর্গমূলক কাজ সারা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যেখানে সাপের কামড়ে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং তিনগুণের বেশি মানুষ পঙ্গুত্বের শিকার হন।
আমি এটা করি তাদের জন্য, যারা আমার থেকে আট হাজার মাইল দূরে সাপের কামড়ে মারা যাচ্ছে। এটা এক সময় আমার জীবনের অংশ হয়ে যায়- বলেন ফ্রিড।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, তার ১৮ বছরের সংগ্রাম অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে সাপের কামড়ের চিকিৎসায় বিপ্লব আনতে পারে।

