সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাত দুই দেশের সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। গত কয়েকদিনের পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয়পক্ষই একে অপরকে আঘাত করতে সক্ষম হলেও- সেইসঙ্গে উন্মোচিত হয়েছে সামরিক ঘাটতির চিত্র।
গত ৭ মে মধ্যরাতে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে মিসাইল হামলা চালায় ভারত। এরপর ১০ মে আবারো দেশটিতে মিসাইল নিক্ষেপ করে নয়াদিল্লি। জবাবে ভোররাতে পাকিস্তান ভারতের বিভিন্ন ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণ চালায়।
এ নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মাইকেল সোব্রিজ বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে দুই পক্ষের সামরিক দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। তারা একে অপরকে আঘাত করতে পারছে, তবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে না। এটি উদ্বেগজনক। সূত্র: আলজাজিরা
তিনি আরো জানান, পাকিস্তানের চীন থেকে আনা জে-১০ যুদ্ধবিমান এবং আধুনিক মিসাইল যদি সত্যিই ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে থাকে, তাহলে এ প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে আসবে।
অন্যদিকে ভারতের ফ্রান্স থেকে আনা ‘স্ট্রম শেডো’ দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল পাকিস্তানে লক্ষ্যবস্তুতে কার্যকরভাবে আঘাত হেনেছে। মাইকেল সোব্রিজ বলেন, এই মিসাইলগুলো পাকিস্তানের চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাস্ত করতে পেরেছে- যা প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় প্রশ্ন তোলে।
প্রসঙ্গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীর হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। এ ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে নয়াদিল্লি সিন্ধু নদ চুক্তি বাতিল করে এবং সীমান্তে উত্তেজনা চরমে ওঠে। এরপর ৭ ও ১০ মে ভারত মিসাইল হামলা চালালে পাকিস্তানও পাল্টা জবাব দেয়।
শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার সংঘর্ষের পর উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, তবে দুই পক্ষই দাবি করেছে- প্রতিপক্ষের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি তারা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘর্ষ ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ভারসাম্যকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।

