ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এক খুনের মামলার অবসান ঘটল আধুনিক ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে।
১৯৬৭ সালের ২৮ জুন, যা প্রায় প্রায় ৫৬ বছর আগে ব্রিস্টলের নিজ বাড়িতে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে খুন হয়েছিলেন ৬০ বছর বয়সী বিধবা লুইসা ডান। সেই মামলার নিষ্পত্তি হলো ২০২৪ সালে। অভিযুক্ত রাইল্যান্ড হেডলি নামের এক ৯২ বছর বয়সী বৃদ্ধকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।
দ্য টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাইল্যান্ড হেডলি একসময় এলাকায় একজন ভদ্র ও শান্ত মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাস্তবে তিনি ছিলেন একজন সিরিয়াল যৌন অপরাধী। ১৯৭০-এর দশকে তিনি দুটি ধর্ষণ এবং ১০টি চুরির অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। তবে তখনো কেউ সন্দেহ করেননি যে তিনিই লুইসা ডানের হত্যাকারী।
তদন্তের প্রথম দিকে পুলিশের কাছে বিশেষ কোনো তথ্য ছিল না। ফরেনসিক প্রযুক্তি সীমিত ছিল, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহেও ছিল বিশৃঙ্খলা। ফলে তদন্ত থেমে যায়।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরে, ২০২৩ সালে মামলাটি আবার খোলা হয়। পুলিশের সংরক্ষিত আলামতের বাক্স থেকে লুইসার পরনে থাকা নীল স্কার্ট ফরেনসিকে পাঠানো হয়। স্কার্টে পাওয়া শুক্রাণুর নমুনা থেকে ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়। সেই ডিএনএ মিলে যায় রাইল্যান্ড হেডলির সঙ্গে। এই সূত্র ধরেই পুলিশ ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর তাঁকে সাফোকের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
বিচারে উঠে আসে, ১৯৫৬ সালে হেডলি জ্যামাইকা থেকে যুক্তরাজ্যে আসেন। এক নার্সকে বিয়ে করে তিন সন্তানসহ পারিবারিক জীবন গড়ে তুললেও, বাস্তবে তিনি ছিলেন এক ভয়ংকর অপরাধী। ১৯৭৭ সালে তিনি ৮৪ ও ৭৯ বছর বয়সী দুই নারীকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তবুও প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন ‘সপ্রতিভ বৃদ্ধ’ হিসেবেই পরিচিত। তবে অনেকে তাঁকে ডাকতেন ‘রাইলি’ নামে।
বিচারের সময় ব্রিস্টলের ক্রাউন আদালতে রাইল্যান্ড ছিলেন পুরোপুরি নিশ্চুপ। কিন্তু ডিএনএ প্রমাণই ছিল মামলার মোড় ঘোরানো প্রধান অস্ত্র। এক দশক আগে অন্য একটি মামলায় হেডলির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, যা এবার তদন্তে কাজে আসে।
ডিটেকটিভ ইনস্পেক্টর ডেভ মার্চেন্ট বলেন-
“আমরা যদি এই মামলা আবার না খুলতাম, রাইল্যান্ড হেডলি কখনোই বিচারের মুখোমুখি হতেন না। লুইসার নাতনি কোনোদিনই সত্য জানতে পারতেন না। যারা মনে করেন সময় সবকিছু ঢেকে দেয়—তাদের বলছি, আমরা ফিরে আসব, আপনাদের জন্য।”
এই মামলার আগে, ব্রিটেনে সবচেয়ে বেশি বয়সে খুনের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন পিটার কিন্ডেল। তিনি ৮০ বছর বয়সে নিজের প্রতিবেশীকে খুন করেন। সেই রেকর্ড ভেঙে রাইল্যান্ড হেডলি হয়ে উঠলেন ব্রিটেনের সবচেয়ে বেশি বয়সে সাজাপ্রাপ্ত খুনি।

