ফুটবল দুনিয়ায় নেমে এসেছে এক শোকাবহ খবর—লিভারপুল ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোতা আর নেই। স্পেনের জামোরায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ বছর বয়সে জীবন হারালেন এই পর্তুগিজ তারকা।
স্পেনের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গার্দিয়া সিভিল নিশ্চিত করেছে, জামোরা অঞ্চলের মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাদেশিক পরিষদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পালাসিওস দে সানাব্রিয়ার কাছাকাছি একটি গাড়ি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত আশপাশের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। গাড়ির ভেতরে থাকা দুই তরুণ—যাদের বয়স ছিল ২৮ ও ২৬—ঘটনাস্থলেই মারা যান।
জোতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্রীড়াজগতজুড়ে শোকের ছায়া। লিভারপুল ক্লাব এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের ভক্ত-সমর্থকেরা একে বিশ্বাস করতে পারছেন না। যে খেলোয়াড় মাঠে সবসময় প্রাণবন্ত ছিলেন, তার এমন করুণ বিদায় কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
দিয়োগো জোতা তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন পর্তুগালের প্যাকোস দে ফেরেইরার যুব একাডেমিতে। সেখান থেকে তাঁর উত্থান শুরু। ২০১৬ সালে নাম লেখান স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদে, যদিও ক্লাবটির হয়ে একটিও ম্যাচ খেলা হয়নি তাঁর। বরং ধারে খেলেন পোর্তোর হয়ে, নিজ শহরের ক্লাবেই ফিরে যান কিছু সময়ের জন্য।
এরপর ইংল্যান্ডের ক্লাব ওলভারহ্যাম্পটনে ধারে খেলতে গিয়ে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেন। ২০১৮ সালে ক্লাবটি তাঁকে স্থায়ীভাবে দলে নেয়। সেখান থেকে ২০২০ সালে তিনি যোগ দেন ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুলে, যেখান থেকে তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন এক অধ্যায় শুরু হয়।
লিভারপুলে কাটানো সময়ে জোতা জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ ও কারাবাও কাপ। ২০২১-২২ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে জোতার অভিষেক হয় ২০১৯ সালের নভেম্বরে। ইউরো ২০২০ এবং ইউরো ২০২৪-এ খেলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। যদিও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চোটের কারণে অংশ নিতে পারেননি। পর্তুগালের হয়ে দুইবার জিতেছেন নেশনস লিগ, যার সর্বশেষটি ছিল মাত্র কিছুদিন আগেই, ২০২৫ সালের মে মাসে।
দিয়োগো জোতা ছিলেন এমন এক ফুটবলার, যিনি নিজের খেলা দিয়ে মানুষকে আনন্দ দিতেন। মাঠে তাঁর গতি, কৌশল ও গোল করার ক্ষমতা তাঁকে ভিন্নমাত্রায় নিয়ে গিয়েছিল। আজ সেই হাসিমুখ আর দেখা যাবে না মাঠে।
ভক্তদের কাছে জোতা শুধু একজন ফুটবলার ছিলেন না, ছিলেন ভালোবাসার এক নাম। তাঁর হঠাৎ বিদায়ে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হলো ফুটবল দুনিয়ায়।

