যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার সম্প্রতি ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী লবিস্ট ফার্ম ডিসিআই গ্রুপের সঙ্গে এক বছরের জন্য ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি করেছে। মার্কিন ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট (FARA) অনুযায়ী, এ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ৩১ জুলাই।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ডিসিআই গ্রুপের প্রধান কার্যক্রম হবে বাণিজ্য, প্রাকৃতিক সম্পদ, ও মানবিক সহায়তা বিষয়ক ক্ষেত্রে মিয়ানমার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে জনসংযোগ কৌশল বাস্তবায়ন। ফার্মটির অন্যতম অংশীদার জাস্টিন পিটারসন পূর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করেছিলেন- যা এ উদ্যোগের কূটনৈতিক দিকটিকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমার-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই নতুন প্রচেষ্টার পেছনে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ। বিশেষ করে মিয়ানমারের বিরল মৃত্তিকা খনিজসম্পদের প্রতি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের আগ্রহ রয়েছে। তবে এই খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার পেতে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের লজিস্টিক ও কূটনৈতিক বাধার মুখোমুখি হতে হবে।
২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসা জেনারেল মিন অং হ্লাইং সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে মনোযোগী হয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক হ্রাস ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য সক্রিয়ভাবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের রাজনৈতিক অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান- দুই দিকেই নতুন মাত্রা যোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

