সৌদি আরবের আল নাসের ক্লাবে বছর দুই কোটি ডলার উপার্জন করা বিশ্বকাপ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো’র জীবনযাত্রার বিপরীতে ফিলিস্তিনি সাবেক ফুটবল তারকা সুলেইমান আল-ওবেইদের জীবনযাত্রা ছিল একেবারেই ভিন্নরকম। ৪১ বছর বয়সী এই ফুটবলারের মৃত্যু হলো মানবিক ত্রাণ আনতে গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হয়ে। স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে রেখে চিরবিদায় নিয়েছেন তিনি।
সুলেইমান আল-ওবেইদ গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে গত বুধবার ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএএফ) তাদের ওয়েবসাইটে সাবেক ফরওয়ার্ড ও গাজা স্পোর্টসের তারকা এই ফুটবলারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
ফিলিস্তিন ফুটবলে ‘দ্য গ্যাজেল’, ‘দ্য ব্ল্যাক পার্ল’, ‘হেনরি অব প্যালেস্টাইন’ ও ‘পেলে অব প্যালেস্টাইন ফুটবল’ নামে খ্যাত সুলেইমান ২০০৭ সালে ক্যারিয়ার শুরু করেন খাদামাত আল-শাতিয়া ক্লাব থেকে। এরপর পশ্চিম তীরের শাবাব আল-আমারিতে খেলেন ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত। পরে আল-শাতিয়া ও গাজা স্পোর্টসে খেলেছেন দীর্ঘদিন। জাতীয় দলে ২৪ ম্যাচে ২ গোল করেছেন তিনি।
পিএএফ জানিয়েছে, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সুলেইমান ১০০টির বেশি গোল করেছেন এবং ফিলিস্তিন ফুটবলের উজ্জ্বলতম তারকাদের একজন ছিলেন।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি এরিক কাতোয়াঁ বলেছেন, ‘সাহায্যের জন্য অপেক্ষমাণ অবস্থায় রাফায় ইসরায়েলি বাহিনী তারকা সুলেইমান আল-ওবেইদকে হত্যা করেছে। আমরা আর কত গণহত্যা দেখতে থাকবো? ফিলিস্তিন মুক্ত হোক।’
২০১০ সালে জাতীয় দলের হয়ে প্রীতি ম্যাচ খেলতে মৌরিতানিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়ার সময় সুলেইমানসহ ছয় খেলোয়াড়কে ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ জর্ডানের সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠায় ইসরায়েল। সুলেইমান তখন বলেছিলেন, ‘আমাদেরও স্বপ্ন থাকে দেশের জার্সি গায়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলার এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার।’
ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু থেকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত গাজায় মারা গেছেন ৬১ হাজার ২৫৮ ফিলিস্তিনি। তাদের মধ্যে খেলাধুলা ও স্কাউটিংয়ে যুক্ত ৬৬২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩২১ জন ফুটবল সংশ্লিষ্ট— খেলোয়াড়, কোচ, প্রশাসক ও অন্যান্যরা।
সুলেইমানের মৃত্যু শুধু একজন তারকার নয়, ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের কষ্ট ও অত্যাচারের প্রতীক। অনাহার ও ত্রাণ সংগ্রহের জন্য তীব্র সংকটের মধ্যে জীবন হারানো এই ফুটবল তারকার কাহিনি বিশ্ববাসীর কাছে মানবিক ট্রাজেডির মর্মস্পর্শী এক নিদর্শন।

