ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৫ লাখ ডলার মানবিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কানাডার সরকার। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এ ঘোষণা দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় অনিতা আনন্দ জানান, এই অর্থ বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন সুবিধা, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দিতেই এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।
ভেনেজুয়েলায় সংঘটিত ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্পের পর দেশটির পরিস্থিতি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গত বুধবার (২৪ জুন) এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর দ্বিতীয় ও আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প দেশটিকে কাঁপিয়ে দেয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী কম্পন আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়।
প্রথম ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল কারাবোবো অঙ্গরাজ্যে, যা রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মূল কম্পনের পর থেকে দেশজুড়ে ২০টিরও বেশি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। ফলে আতঙ্কে বহু মানুষ এখনও ঘরে ফিরতে পারেননি এবং খোলা জায়গা বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ২৩৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে দেশটির জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, উদ্ধারকাজ শেষ হলে মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে প্রাণহানির সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে শুধু উদ্ধার অভিযান নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, চিকিৎসা, খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কানাডার এই মানবিক সহায়তা জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও আরও সহায়তা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

