ইউরোপ ভ্রমণে যাচ্ছেন? তাহলে এবার থেকে আরো সাবধান হতে হবে। কারণ সেখানে ছোটখাটো নিয়মভঙ্গের জন্যও গুনতে হতে পারে মোটা অঙ্কের জরিমানা। খালি পায়ে হাঁটা থেকে শুরু করে স্যান্ডেল পরে গাড়ি চালানো কিংবা সমুদ্রসৈকতের বাইরে সাঁতারের পোশাক পরা—এসব এখন অনেক দেশেই ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’।
বিমানে নিয়মভঙ্গেও জরিমানা-
তুরস্কের আন্তালিয়া বিমানবন্দরে পৌঁছেই যদি আপনি বিমান পুরোপুরি থামার আগেই সিটবেল্ট খুলে ফেলেন, তাহলে গুনতে হবে ৬২ ইউরো (প্রায় ৫৪ পাউন্ড) জরিমানা। এ বছরের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিমান থামার আগেই আসন ছাড়াকে ‘অপরাধ’ ধরা হচ্ছে।
জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে কঠোর আইন-
স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স, ইতালি ও গ্রীসসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশে পর্যটকদের জন্য নতুন শাস্তির বিধান চালু হয়েছে।
- স্পেনের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ (ম্যালোর্কা, ইবিজা): জনসমক্ষে মদ্যপান করলে জরিমানা হতে পারে সর্বোচ্চ ৩,০০০ ইউরো।
- পর্তুগালের আলবুফেইরা: সৈকতের বাইরে সাঁতারের পোশাক পরা নিষিদ্ধ; জরিমানা সর্বোচ্চ ১,৫০০ ইউরো।
- গ্রীস: সৈকত থেকে খোলস বা নুড়ি তুললে জরিমানা ১,০০০ ইউরো।
- ইতালি (সোরেন্টো, ভেনিস): খালে সাঁতার কাটলে দিতে হবে ৩৫০ ইউরো।
- ফ্রান্স: সৈকত বা খেলাধুলার মাঠে ধূমপান করতে গিয়ে আগুন লাগালে জরিমানা ৯০ ইউরো।
- ইতালির ‘সিনকে তেরতে’: অনুপযুক্ত জুতা পরে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে উঠলে জরিমানা ২৫০০ ইউরো পর্যন্ত।
কেন এসব নিয়ম?
কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব বিধিনিষেধ মূলত স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা রক্ষা ও পর্যটকদের দায়িত্বশীল আচরণে অভ্যস্ত করার জন্য। স্পেন, পর্তুগালসহ অনেক দেশেই ভ্রমণকারীদের জন্য আচরণবিধি প্রচার করা হচ্ছে—যেখানে আবর্জনা না ফেলা, পোশাকে শালীনতা বজায় রাখা, অতিরিক্ত শব্দ না করা ও ই-স্কুটার সাবধানে চালানোর মতো নির্দেশনা রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, পর্যটনের কারণে পরিবেশ ও সংস্কৃতির ক্ষতি ঠেকাতেই জরিমানার বিধান কড়া করা হচ্ছে। স্পেনের মালাগা শহরে “ইমপ্রুভ ইয়োর স্টে” নামে ১০ দফা আচরণবিধি চালু হয়েছে, যা বাসে, বিলবোর্ডে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
পর্যটকদের প্রতি বার্তা-
পর্যটননির্ভর অর্থনীতির দেশগুলো জানাচ্ছে—অধিকাংশ মানুষ দায়িত্বশীলভাবে ভ্রমণ করলেও কিছু পর্যটকের ‘অবাধ্য আচরণ’ স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। তাই ছুটি উপভোগ করতে চাইলে এখন ভ্রমণকারীদের জন্য মূল বার্তা একটাই: “নিয়ম মেনে চলুন, নয়তো গুনতে হবে জরিমানা।”

