ইউক্রেনকে তাদের ডনবাস অঞ্চল ছাড়ার দাবি তুলনা করলে তা ঠিক সেইরকম হবে, যেমন যুক্তরাষ্ট্রকে ফ্লোরিডা ছাড়তে বলার মত বলে মন্তব্য করেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। তিনি বলেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় পুরো ইউরোপের অংশগ্রহণ থাকা অত্যন্ত জরুরি। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক গণমাধ্যম আলাপচারিতায় মের্জ বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় কারা অংশ নেবে—এ প্রশ্নে একেবারে পরিষ্কার, সমগ্র ইউরোপকে এতে যুক্ত হতে হবে।” তিনি রাশিয়ার কৌশলের সমালোচনা করে বলেন, “রাশিয়ার দাবি হলো কিয়েভ যেন ডনবাসের অবশিষ্ট অংশ ছাড়ে। এটি যদি তুলনা করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ফ্লোরিডা ছাড়তে বলার সমান।”
মের্জের মন্তব্য আসে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর। তিনি বলেন, “ইউক্রেনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন।” তবে তিনি সংশয় প্রকাশ করে বলেন, জেলেনস্কি উপস্থিত থাকলেও পুতিন ওই বৈঠকে আসার সাহস দেখাবেন কি না তা এখনও অনিশ্চিত।
মের্জ ট্রাম্পের ঘোষিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি “শুধু প্রত্যাশা পূরণ করেনি, বরং অতিক্রম করেছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো ইউরোপকে অংশ নিতে হবে।” অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাত সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকেই কিছু ভূখণ্ড ছাড় দিতে হবে।
এছাড়া, জার্মান চ্যান্সেলর মের্জ জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মধ্যে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “পুতিন ইতোমধ্যেই বৈঠকে সম্মত হয়েছেন।” ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৈঠকের স্থান এখনও নির্ধারিত হয়নি।
মের্জের মতে, এই বৈঠকে পুতিনকে রাজি করাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে পুতিন বৈঠকে সম্মত হয়েছেন। চ্যান্সেলর মের্জ নিজে ইউরোপীয় নেতাদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সোমবার ওয়াশিংটনে গিয়েছিলেন জেলেনস্কিকে সমর্থন জানাতে।
মের্জ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বৈঠকের এক বিরতির সময় ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন এবং সিদ্ধান্ত হয়েছে যে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বৈঠকে মিলিত হবেন। তিনি আরো বলেন, ট্রাম্প একটি তিন-পক্ষীয় বৈঠকের জন্যও সম্মতি দিয়েছেন, যাতে আলোচনার কার্যক্রম বাস্তবে শুরু করা যায়। মের্জ বলেন, “সাবলীলভাবে বলতে গেলে, পুরো ইউরোপকে এতে অংশ নিতে হবে।”

