Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice Sat, Jan 17, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ট্রাম্পের নোবেল স্বপ্ন ও বাস্তবতা
    আন্তর্জাতিক

    ট্রাম্পের নোবেল স্বপ্ন ও বাস্তবতা

    নাহিদAugust 24, 2025
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    ট্রাম্পের নোবেল স্বপ্ন
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বিশ্বের নামকরা মানুষদের মধ্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য প্রচারণা চালানো নতুন কোনো ঘটনা নয়। বিশেষ করে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পুরুষরা এটি বেশিরভাগ সময় করে থাকেন। বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, এমনকি কবিরাও কখনো কখনো নিজেদের কাজের স্বীকৃতির জন্য এ ধরনের প্রচেষ্টা চালান। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রচারণা এত নির্লজ্জ এবং এতটাই অস্বাভাবিক যে, এটি আগের কোনো প্রচারণার তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা এবং বিশ্ব দরবারে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টতই সহ্য করতে পারছেন না যে, তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বারাক ওবামার কাছে নোবেল শান্তি পুরস্কার রয়েছে কিন্তু তার কাছে নেই। এটি একটি ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতার দিকনির্দেশও বহন করে। অন্যদিকে, ওবামার নোবেল শান্তি পুরস্কারটি অনেকেই অপ্রত্যাশিত ও তাড়াহুড়ো করা হিসেবে দেখেছেন, কারণ তিনি মাত্র কয়েক মাস মার্কিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তার পুরস্কারকে তখন অনেকেই সময়োপযোগী বা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের প্রমাণ হিসেবে দেখেননি।

    ট্রাম্পের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। তার নোবেল প্রচারণা শুধু স্বার্থপরতার পরিচয় দেয় না বরং এটি শান্তি পুরস্কারের আন্তর্জাতিক মর্যাদাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, যদি ট্রাম্প এই পুরস্কার পেতেন, তা শান্তি এবং কূটনীতি সংক্রান্ত সর্বোচ্চ সম্মানকে হাস্যকর করে তুলত। এ ধরনের প্রচারণা রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের মিলনে একটি বিতর্কিত চিত্র তৈরি করেছে।

    বিশ্লেষকরা দেখিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রচেষ্টা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বহন করে। এটি কেবল তার আন্তর্জাতিক কূটনীতির দক্ষতা বা শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান নয় বরং এটি তার ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক ইমেজকে দৃঢ় করার একটি কৌশল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং নোবেল কমিটির নজরে এটি ইতিবাচক নয় বরং বিশ্ব দরবারে হাস্যরসের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    এভাবে, ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রচারণা শুধু তার স্বার্থের প্রতিফলন নয়, এটি বিশ্ব রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মান সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু করেছে। এতে প্রমাণিত হয়েছে, স্বার্থ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মিল কখনো কখনো হাস্যকর এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

    নোবেল শান্তি পুরস্কার হলো বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মান, যা শান্তি প্রতিষ্ঠা বা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রদান করা হয়। বিজেতাদের নির্বাচন করে নরওয়ের সংসদের দ্বারা নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ নরওয়েজিয়ান কমিটি। এই কমিটি বিশ্বের শান্তি ও কূটনৈতিক সংহতির জন্য দায়বদ্ধ ব্যক্তিদেরই স্বীকৃতি দেয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বধর্মী আচরণ এবং আন্তর্জাতিক নীতি নোবেল শান্তি পুরস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    প্রথম কারণ হলো, ট্রাম্প বারবার ইউরোপ এবং তার অংশ নরওয়েকে হেয় করেন। তিনি একাধিকবার গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়েছেন, যা নরওয়ের প্রতিবেশী ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল। এটি কেবল কূটনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য নয় বরং নরওয়ের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এছাড়া, তিনি ন্যাটো জোটকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছেন। ন্যাটো জোটে নরওও সদস্য। এই জোটে সমন্বয়, বিশ্বাস এবং প্রতিরক্ষা কার্যকারিতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড একপ্রকার এই মৌলিক নীতি ও আস্থা ভঙ্গ করছে।

    দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প স্বৈরশাসকদের প্রতি অসামঞ্জস্যপূর্ণ সমর্থন দেখান। তিনি ইউরোপের সবচেয়ে বড় স্থল যুদ্ধের জন্য দায়ী একজন স্বৈরশাসকের প্রতি প্রশংসা প্রকাশ করেন কিন্তু সেই যুদ্ধের প্রতিরক্ষা দিচ্ছেন এমন দেশের প্রেসিডেন্টকে হেয় করে দেখান। এই আচরণ আন্তর্জাতিক শান্তি ও ন্যায়বিচারের নীতি বিরোধী।

    এছাড়া, ট্রাম্প ব্রাজিলের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করেছেন। তার কারণ হলো, ব্রাজিলের সরকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জেয়ার বোলসোনারোকে দায়বদ্ধ করার চেষ্টা করছে। বোলসোনারো ২০২২ সালে ট্রাম্প-অনুপ্রাণিত এক প্ররোচিত বিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ প্রমাণ করে যে, তিনি স্বৈরশাসক বা ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ক্ষেত্রে রুক্ষ মনোভাব পোষণ করেন।

    তৃতীয়ত, ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি দৃঢ় সমর্থন দেখিয়েছেন। নেতানিয়াহু গাজায় কঠোর হামলা চালাচ্ছেন এবং অসলো চুক্তির মূল নীতিগুলি চরমভাবে উপেক্ষা করছেন। অসলো চুক্তি হলো নরওয়ের শেষ অর্ধশতাব্দীর প্রধান কূটনৈতিক সাফল্য। ট্রাম্পের সমর্থন এই চুক্তির মর্যাদা ও নরওয়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে।

    এই সব কারণের কারণে বলা যায়, ট্রাম্পের নীতি ও আচরণ নোবেল শান্তি পুরস্কারের আদর্শের সঙ্গে পুরোপুরি বিরোধী। তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি, ন্যায় এবং কূটনৈতিক সমঝোতার মূল্যবোধকে হ্রাস করছেন, স্বৈরশাসককে সমর্থন করছেন এবং ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিকে হেয় করছেন। এমন পরিস্থিতিতে, নরওয়ের নির্বাচক কমিটি তাকে এই পুরস্কারের জন্য উপযুক্ত মনে করবে এমন ভাবা কল্পনাতীত।

    সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের কূটনৈতিক আচরণ এবং নীতিগত পছন্দগুলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নোবেল শান্তি পুরস্কারের নৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি ইউরোপ ও ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর প্রতি আস্থা কমাচ্ছেন, স্বৈরশাসক ও আক্রমণাত্মক নেতাদের সমর্থন দিচ্ছেন এবং শান্তি চুক্তিকে অবমূল্যায়ন করছেন। এই সব কারণ মিলিয়ে, ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

    ওসলো চুক্তি সরাসরি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ না করলেও, এটি পশ্চিম তীর ও গাজায় স্বশাসিত ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলার মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রের সমাধানের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে। চুক্তিটি মূলত একটি রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করেছিল, যা ভবিষ্যতে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সুযোগ দিতে পারত। কিন্তু আজকের পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। গাজায় ইসরায়েল শুধু বাড়িঘর ধ্বংস করছে না বরং সাধারণ মানুষকে খাদ্য ও পানি সংকটে ভুগিয়ে রাখছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন, যা কার্যত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিষ্ঠাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

    ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন কেবল নেতানিয়াহুই নয়; তার সমর্থনে কণ্ঠবদ্ধ হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প কেবল এই কার্যক্রমকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না, তিনি নেতানিয়াহুর সমালোচকদের শাস্তিও দিচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছে এমন দেশও, যা ঐতিহাসিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত, যেমন নরওয়ে। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সংলাপের প্রচেষ্টা ট্রাম্পের নীতির কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতিকেও বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ট্রাম্প সংলাপ এবং পুনর্মিলনের প্রতি সমান তুচ্ছ মনোভাব প্রদর্শন করেছেন। তার প্রথম প্রেসিডেন্টকালীন সময়ে তিনি তার যৌথ চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ওয়াশিংটন ডিসিতে ডাকা সেনারা কি প্রতিবাদীদের পায়ে গুলি করতে পারবে। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, তিনি সংলাপের বদলে শক্তি ও ভয় প্রদর্শনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

    আজকের দিনে ট্রাম্প ন্যাশনাল গার্ডের সেনাদের এমন শহরে মোতায়েন করছেন যেখানে তাদের প্রকৃত প্রয়োজন নেই এবং যেখানে স্থানীয় জনগণ তাদের উপস্থিতি কামনা করছে না। একই সঙ্গে তিনি আশ্রয়প্রার্থী, আইনগত অভিবাসী, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের, শিশু সহ যথাযথ বিচার ও প্রক্রিয়া ছাড়া আটক ও বহিষ্কার করছেন। এটি একটি গুরুতর মানবিক এবং ন্যায়বিচার সম্পর্কিত সমস্যা সৃষ্টি করছে।

    ট্রাম্পের নীতি কেবল আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নয়, অভ্যন্তরীণভাবে সংলাপ, সহমত এবং ন্যায়বিচারকে অবমূল্যায়ন করছে। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের কার্যক্রমকে স্বীকৃতি দেওয়া, সমালোচকদের শাস্তি, নাগরিকদের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করা—এই সব মিলিয়ে এটি একটি ধারা প্রকাশ করছে যেখানে শক্তি ও স্বার্থকে মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত নীতির উপরে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় শান্তি ও স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক দুনিয়ায় দায়িত্বশীলতা এবং সত্য মানেই প্রায়শই ‘ডায়নি শিকার’ বা কুৎসা আর তথ্যকে ‘গুজব’ হিসেবে উপেক্ষা করা। এই দুনিয়ায় মিথ্যা বলা, নিজের সুবিধার জন্য পরিস্থিতি মোড়ানো এবং চাপ সৃষ্টি করা যেন নিয়ম। এমন পরিবেশে কিছুই অপ্রত্যাশিত নয়। আমরা একাধিকবার দেখেছি, বিশ্বনেতারা কখনও ট্রাম্পের সঙ্গে মেলবন্ধন করেছেন, কখনও তার চাপের কাছে হেরে গেছেন। এমনকি তিনি ইতিমধ্যেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন।

    নামকরা দেশগুলো—যেমন পাকিস্তান এবং কম্বোডিয়া স্বাভাবিক শান্তির উদাহরণ নয়। পাকিস্তান বহু রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে গেছে, আর কম্বোডিয়ার নেতৃত্ব এমন স্বৈরশাসক, যাদের ট্রাম্প প্রায়শই সমর্থন করেন। কিন্তু সেগুলোই নোবেল কমিটির মানদণ্ডে পূর্ণতার মানে নয়।

    নোবেল কমিটি ইতিহাসে অনেকবার এমন ভণ্ড শান্তিচুক্তির ভিন্নমুখী অবস্থান দেখিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৩৯ সালে সুইডেনের সংসদের বারো জন সদস্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেইনকে মনোনয়ন করেছিলেন। তিনি আগের বছর হিটলারের সঙ্গে মিউনিখ চুক্তি করেছিলেন, যা তাকে চেকোস্লোভাকিয়ার সুডেটেনল্যান্ড দখলের অনুমতি দিচ্ছিল। কিন্তু নোবেল কমিটি সেই বছর কোনো পুরস্কার দেয়নি। সিদ্ধান্তটি প্রায়শই ইতিহাসের বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানো হয়। চেম্বারলেইনের চুক্তি না শুধু নাজি জার্মানিকে শক্তিশালী করেছে বরং হিটলারের বৃহত্তর আগ্রাসনকে উস্কে দিয়েছে।

    ট্রাম্প হয়তো ভাবছেন, ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে কিছু জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য করাই তার নোবেল শান্তি পুরস্কারের সবচেয়ে সহজ পথ। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। নোবেল কমিটি সাধারণত স্বৈরশাসনের সমর্থকদের চেয়ে তার বিরোধীদের দিকে মনোযোগ দেয়। উদাহরণ হিসেবে ২০১০ সালে জেলাভোগী চীনা বিরোধী লিউ শিয়াবোকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। লিউ দীর্ঘদিন ধরে নীরব, অপ্রত্যাশিতভাবে মানবাধিকার রক্ষা ও চীনের গণতান্ত্রিক চেষ্টার জন্য লড়েছেন। যদিও চীনা সরকার সিদ্ধান্তটি সমালোচনা করেছে, নোবেল কমিটি তার নীতি অনুযায়ী স্থির রয়েছে। ট্রাম্পকে পুরস্কার দেওয়া হলে, এটি বিপরীত বার্তা দিতে পারে এবং এমনকি অন্য স্বৈরশাসক যেমন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে প্ররোচিত করতে পারে।

    তাহলে ট্রাম্প কেন নোবেল শান্তি পুরস্কার চায়? সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ হলো—বারাক ওবামার পুরস্কার। ট্রাম্প ওবামার বিরুদ্ধে প্রায়শই তির্যক মন্তব্য করেছেন। ওবামার জন্ম, চরিত্র এবং নীতি নিয়ে ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়েছেন। কিন্তু ওবামা শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন। এই পার্থক্য ট্রাম্পের অহংকার এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মিশ্রণকে বোঝায়।

    ওবামার নোবেল শান্তি পুরস্কার বিতর্কিত ছিল। ২০০৯ সালে মাত্র কয়েক মাস ক্ষমতায় থাকাকালীন, তিনি নীরব প্রতিশ্রুতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভাষণের মাধ্যমে আশা জাগিয়েছিলেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, পুরস্কার মূলত তার প্রাসঙ্গিকতা এবং পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের যুদ্ধনীতির বিপরীতে একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।

    ট্রাম্পের সম্ভাব্য নোবেল শান্তি পুরস্কার এর চেয়ে ভিন্ন। এটি হবে প্রায়শই রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ফল। যদি তিনি যদিও কমিটিকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন, তবে পুরস্কার কৌতুকের বিষয় হয়ে উঠবে। ইতিহাসে নোবেল শান্তি পুরস্কার কেবল কূটনীতি নয় বরং মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিফলন। ট্রাম্পের কৌশলগুলো এই মূলনীতির বিপরীতে।

    ট্রাম্পের নোবেল স্বপ্ন শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রভাব এবং ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফল। ইতিহাস দেখিয়েছে, নোবেল কমিটি কখনও ভণ্ড শান্তিচুক্তি বা স্বৈরশাসকের প্রশংসা দেয়নি। এটি মূলত শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং নৈতিক সাহসিকতার স্বীকৃতি। ট্রাম্পের পদক্ষেপের প্রকৃত লক্ষ্য যখন নিজের অহংকার ও রাজনৈতিক স্বার্থ, তখন এই পুরস্কার তার জন্য বাস্তবতা নয় বরং কৌতুকের বিষয় হয়ে যেতে পারে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    হামলার হুমকি দেওয়ার পর হঠাৎ ইরানকে ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প

    January 17, 2026
    আন্তর্জাতিক

    এবার উগান্ডার প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে অপহরণের অভিযোগ

    January 17, 2026
    বাংলাদেশ

    বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট, দ্বিগুণ দামেও মিলছে না সিলিন্ডার

    January 17, 2026
    Leave A Reply Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি August 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত January 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত April 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি August 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.