ভারতের উত্তর প্রদেশের গোরখপুরে পারিবারিক অর্থসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক তরুণ নিজের বোনকে নৃশংসভাবে খুন করেছেন। হত্যার পর লাশ একটি বস্তায় ভরে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ থামালে তিনি দাবি করেন, বস্তার ভেতরে গম রয়েছে।
৩২ বছর বয়সী রাম আশিস নিষাদ তাঁর ১৯ বছর বয়সী বোন নীলম নিষাদকে খুন করেন বলে জানিয়েছে গোরখপুর পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য সরকার তাদের পরিবারের জমি অধিগ্রহণ করে। এর ক্ষতিপূরণ বাবদ রাম আশিসের বাবা চিংকু নিষাদ ছয় লাখ রুপি পান।
পুলিশ জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণের অর্থ বোনের বিয়ের জন্য খরচ করা হবে জেনে রাম আশিস ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এই অর্থ ভাগাভাগি নিয়েই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এরপর গত সোমবার তিনি কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে বোনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে নীলমের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভেঙে দেহটি একটি বস্তায় ভরেন এবং মোটরসাইকেলে বেঁধে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে কুশীনগরের একটি আখখেতে ফেলে আসেন।
ঘটনার দিন সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাম আশিস একটি বস্তা নিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছেন। পথে পুলিশ তাঁকে থামিয়ে ভেতরে কী আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে গম আছে।’ এরপর তিনি আবার কুশীনগরের দিকে চলে যান। পরে ওই আখখেতে নীলমের লাশ ফেলে দিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।
পরের দিন থেকে নীলমকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধরে নেন, তিনি ছটপূজায় অংশ নিতে কোথাও গেছেন। কিন্তু প্রতিবেশীদের কেউ কেউ জানান, সোমবার রাম আশিসকে একটি বস্তা নিয়ে বের হতে দেখা গেছে। এরপর সন্দেহ দানা বাঁধে এবং পরিবার পুলিশে খবর দেয়।
প্রথমে পুলিশ নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তদন্ত শুরু করে। পরে পরিবারের আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে রাম আশিসকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শুরুতে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করলেও টানা জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেন। তাঁর স্বীকারোক্তির পর বুধবার রাতে কুশীনগরের আখখেত থেকে নীলমের গলিত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরিবার জানিয়েছে, আগামী জানুয়ারিতেই নীলমের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল এবং প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু ক্ষতিপূরণের টাকার ভাগ নিয়ে রাম আশিসের লোভই ঘটনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

