যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কনীতি বাতিলের দাবিতে দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে একটি রেজোল্যুশন পাস হয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সিনেট সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরোধিতা করেছেন, যা বিরল এক রাজনৈতিক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৩০ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটে মোট ৫১ জন সদস্য রেজোল্যুশনের পক্ষে ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট দেন ৪৭ জন। বাকি দুই সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির চার সিনেটর—কেন্টাকির র্যান্ড পল ও মিচ ম্যাককোনেল, আলাস্কার লিসা মুরকৌওস্কি এবং মেইনের সুসান কলিন্স—এই রেজোল্যুশনের পক্ষে ভোট দেন।
রেজোল্যুশন পাসের মাধ্যমে সিনেট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈশ্বিক রপ্তানি শুল্কনীতির বিরোধিতা জানিয়েছে। গত ২ এপ্রিল ট্রাম্প বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের ওপর বর্ধিত রপ্তানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা তিনি ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষার পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। তবে শুরু থেকেই বিরোধীরা এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছেন, কারণ এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে তাদের দাবি।
ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে (কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড) মামলা করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন “ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট, ১৯৭৭” (আইইইপিএ) আইনের অপব্যবহার করেছে।
আইনে বলা আছে, সাধারণ পরিস্থিতিতে শুল্ক হার নির্ধারণ করবে কংগ্রেস; প্রেসিডেন্ট কেবল জরুরি অবস্থায় অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারেন।
আদালত ২৯ মে রায় দিয়ে ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাতিল ঘোষণা করে, তবে এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত সেই রায় স্থগিত করে অস্থায়ীভাবে ট্রাম্পের শুল্কনীতি পুনরায় কার্যকর করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কোনো নীতির বিরুদ্ধে তাঁর দলের এমপিদের ভোট দেওয়া নজিরবিহীন। ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটাই প্রথমবার রিপাবলিকান পার্টির চার সিনেটর তাঁর অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন।
ভোটাভুটির পর ভার্জিনিয়ার সিনেটর ও ডেমোক্রেটিক নেতা টিম কাইন বলেন, “আমরা আশা করছি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর শুল্কনীতি পুনর্বিবেচনা করবেন। আজকের ভোটে স্পষ্ট হয়েছে, এই নীতি নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই গভীর মতভেদ রয়েছে।”

