নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ভয়াবহ স্কুল হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাপিরি কমিউনিটির স্টে. মেরিজ নামের ক্যাথলিক স্কুলে সশস্ত্র হামলাকারীরা অন্তত ২১৫ শিক্ষার্থী এবং ১২ জন শিক্ষককে অপহরণ করেছে। এর আগে একই সপ্তাহে আলাদা ঘটনায় ২৫ ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছিল।
শনিবার (২২ নভেম্বর) ডেইলি সাবাহর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব নাইজেরিয়ার মতে, হামলার পর তারা স্কুলে গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং অপহৃতদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে কাজ করছেন। নাইজার রাজ্য পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলা শুক্রবার ভোররাতে সংঘটিত হয়। ঘটনাস্থলে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার সময় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে ৫০টির বেশি ভবন সমৃদ্ধ প্রাইমারি স্কুলও ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা দাউদা চেকুলা জানিয়েছেন, তার ৭ থেকে ১০ বছর বয়সী চার নাতি-নাতনিও অপহৃতদের মধ্যে রয়েছে। কিছু শিশু পার্শ্ববর্তী বাড়িতে লুকিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছে, তবে বাকিদের গভীর জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হামলার সময় একজন নিরাপত্তা কর্মী গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
নাইজার রাজ্য সরকার জানিয়েছে, হামলার পূর্বে এলাকায় গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তবে অনুমতি ছাড়া স্কুল খোলা থাকায় এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে কেব্বি রাজ্যের একটি স্কুল থেকে ২৫ ছাত্রী অপহৃত হয়েছিল, যার মধ্যে একজন পালাতে সক্ষম হয়। একই সপ্তাহে কওয়ারা রাজ্যে একটি চার্চে হামলা চালিয়ে দুই উপাসককে হত্যা এবং ৩৮ জনকে অপহরণ করা হয়। হামলাকারীরা প্রতিটি অপহৃতের জন্য ১০ কোটি নাইরা (প্রায় ৬৯ হাজার ডলার) মুক্তিপণ দাবি করেছে।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু নিরাপত্তার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় জি–২০ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। তার স্থলে ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশিম শেত্তিমা সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং জানান, সরকার অপহৃতদের ফিরিয়ে আনতে “রাষ্ট্রের সব ধরনের শক্তি” ব্যবহার করবে।
ডেইলি সাবাহের খবরে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। ২০১৪ সালে বোকো হারামের হাতে চিবক স্কুলছাত্রী অপহরণের পর থেকে নাইজেরিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে ১,৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অপহৃত হয়েছে।

