রয়টার্স জানিয়েছে, নভেম্বরে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তথ্যটি দিয়েছে জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলার। ভারতের শোধনাগারগুলো এই মাসে রাশিয়ান তেলের ওপর আরও বেশি নির্ভর করার পরিকল্পনা করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মাসে ভারতের রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ক্রয় দৈনিক ১.৮৫৫ মিলিয়ন ব্যারেল (বিপিুড) পৌঁছাতে পারে। এটি অক্টোবর মাসের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ক্রয় বৃদ্ধির ফলে ভারতের তেলের মজুদের অবস্থান শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠাপড়ার প্রভাব কমবে।
একটি ট্রেডিং সোর্স জানিয়েছে, নভেম্বর মাসে রাশিয়ার তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রধান কারণ, অনেক শোধনাগার মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সময়সীমার আগে তাদের মজুদ পূরণ করতে চাইছে। শোধনাগারগুলো দ্রুত আমদানির মাধ্যমে বাজারে তেলের ঘাটতি এড়াতে এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে।
যুক্তরাষ্ট্র গত ২২ অক্টোবর রাশিয়ান তেলের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলিকে রোসনেফ্ট ও লুকোইলের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করার জন্য ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন প্রশাসন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাশিয়ার তেল ব্যবসায় প্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের তেল আমদানির এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। রাশিয়ান তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে তেলের লেনদেন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, শোধনাগারগুলোর আগাম প্রস্তুতি এবং মজুদের বৃদ্ধি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

