বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১৭২ ডলারে উঠে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্পর্শ করেছে। একই সঙ্গে ডিসেম্বর ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারও ০.৭ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১৬৮ ডলারে পৌঁছেছে।
গতকাল বুধবার (২৬ নভেম্বর) রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো বলেন, বাজার আবারও ডিসেম্বরের জন্য সুদ কমার সম্ভাবনা মূল্যায়ন করছে। সুদ কমলে স্বর্ণের আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। স্টাউনোভো আরও বলেন, বছরের শেষে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ২০০ ডলার এবং আগামী বছরের মাঝামাঝি আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এর আগে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, মার্কিন খুচরা বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম বেড়েছে। প্রযোজক মূল্যও অনুমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নভেম্বরে ভোক্তা আস্থা কমে যাওয়ায় ফেডের নরম অবস্থানের ইঙ্গিত আরও শক্তিশালী হয়েছে। ফলে বাজারে ডিসেম্বরের সুদ কমার সম্ভাবনা এখন ৮৩ শতাংশ, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল মাত্র ৩০ শতাংশ।
একই সময়, হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট ফেডের পরবর্তী চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। এটি নীতিতে আরও নরম অবস্থানের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। বাজার এখন আজকের মার্কিন সাপ্তাহিক বেকার ভাতা দাবির তথ্যের দিকে তাকিয়ে। এটি শ্রমবাজারের শক্তি এবং ফেডের নীতির দিকনির্দেশনা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, ডয়চে ব্যাংক তাদের ২০২৬ সালের স্বর্ণের পূর্বাভাস আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার ৪৫০ ডলার করেছে। ধাতুর অন্যান্য বাজারেও উত্থান দেখা গেছে। রুপার দাম ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫২.৪৩ ডলার, প্লাটিনাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৬২.৫০ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪১১.৫৭ ডলারে পৌঁছেছে।
দেশীয় বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৭০ হাজার ৩১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৮ টাকা।

