মিয়ানমারে আসন্ন নির্বাচনের আগে সামরিক জান্তা সরকার ৩ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা দিয়েছে এবং ৫ হাজার ৫৮০ জন সাধারণ বন্দির বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এমন ঘোষণা দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপি ও নিক্কেই এশিয়া জানিয়েছে—এই পদক্ষেপকে নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণায় মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রনেত্রী ও নোবেলজয়ী অং সান সু চি মুক্তির অন্তর্ভুক্ত কিনা তা নিশ্চিত করা হয়নি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানের পর থেকে সু চি কার্যত অজ্ঞাত স্থানে আটক আছেন এবং তৎপরবর্তী রাজনৈতিক মামলায় তাঁর মোট ২৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভির ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও শান্তি কমিশন ৩ হাজার ৮৫ জন রাজবন্দিকে ক্ষমা প্রদান করে। এদের অধিকাংশ দণ্ডবিধির ৫০৫(এ) ধারায় অভিযুক্ত ছিলেন—যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে মন্তব্য, ভুয়া তথ্য প্রচার, জনগণের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তবে ঘোষণা সত্ত্বেও ঠিক কবে এসব বন্দি মুক্তি পাবেন তা জানানো হয়নি। পূর্বে সাধারণ ক্ষমার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে মুক্তির প্রক্রিয়া একাধিক ধাপে সম্পন্ন হতে সময় লেগেছে।
সরকারি তথ্য অনুসারে, ইতোমধ্যে ৭২৪ জনকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, পরবর্তীতে কেউ অপরাধ করলে আগের সাজাসহ নতুন দণ্ডও ভোগ করতে হবে।
একই দিনে অপর একটি বিজ্ঞপ্তিতে ৫ হাজার ৫৮০ জনের বিরুদ্ধে থাকা বিচারের প্রক্রিয়া বাতিল এবং মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। যারা একই অভিযোগে আত্মগোপনে ছিলেন তাঁরাও সাধারণ ক্ষমার আওতায় পড়বেন।
স্বাধীন মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (AAPP) জানায়, বুধবার পর্যন্ত সু চিসহ ২২ হাজার ৭০৮ জন রাজনৈতিক বন্দি মিয়ানমারে কারাবন্দি ছিলেন। রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির অধিকাংশ শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়ায় এবং গণমাধ্যম স্বাধীন না থাকায় পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন—আসন্ন নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পরপরই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিরোধ সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে তা সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নেয়। এখনো দেশজুড়ে সহিংসতা অব্যাহত এবং বহু অঞ্চল কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

