২০১১ সালে টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ককে প্রশ্ন করা হয়েছিল, চীনের বিদ্যুৎচালিত গাড়ি কোম্পানি বিওয়াইডি কি টেসলার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে। তখন মাস্ক এই সম্ভাবনাটিকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৪ বছরের মাথায় সেই সম্ভাবনা বাস্তব হয়ে উঠেছে।
২০২৫ সালে প্রকাশিত বিক্রয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রিতে চীনের বিওয়াইডি টেসলাকে ছাড়িয়ে গেছে। বিওয়াইডি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তারা মোট ২২ লাখ ৬০ হাজার বিদ্যুৎচালিত গাড়ি বিক্রি করেছে। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। বিপরীতে টেসলার গাড়ি বিক্রি কমেছে; ২০২৫ সালে তারা মাত্র ১৬ লাখ গাড়ি বিক্রি করেছে, যা ৮.৬ শতাংশ কম এবং কোম্পানির ইতিহাসে সর্বোচ্চ হারে বিক্রি হ্রাস।
মজার বিষয় হলো— মার্কিন বাজারে বিক্রি না হলেও বিওয়াইডি টেসলাকে ছাড়াতে সক্ষম হয়েছে। চীনে টেসলা দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার হলেও ২০২৫ সালে টেসলার বিক্রি দ্বিতীয় বছর ধরে হ্রাস পেয়েছে। চতুর্থ প্রান্তিকে টেসলার বিক্রি দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫.৬ শতাংশ কম। টেসলা বাজারভিত্তিক বিক্রির বিস্তারিত প্রকাশ করে না, তারা শুধুমাত্র বৈশ্বিক সংখ্যা জানায়।
টেসলার প্রতিবেদনে উল্লেখ, মোট আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। অন্যান্য গাড়ি কোম্পানি ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন শীঘ্রই প্রকাশ করবে, যেখানে ধারণা করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে ইভি বিক্রির দুর্বল চিত্র ফুটে উঠতে পারে।
একসময় টেসলার গাড়ি বিক্রি বছরে প্রায় ৫০ শতাংশ হারে বেড়ে যেত। তবে ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে কোম্পানি প্রথমবার জানায়, তাদের বিক্রি কমেছে। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বিক্রিও আরও হ্রাস পায়। অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা তো ছিলই, সেই সঙ্গে ইলন মাস্কের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
গত বছরের শুরুতে মাস্ক যখন ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’র নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তখন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে টেসলার বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে নিয়মিত বিক্ষোভ এবং কিছু স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা দেখা গেছে।
বিওয়াইডির সাফল্যের কারণ-
বিওয়াইডির সফলতার মূল কারণ হলো তাদের গাড়ির কম দাম ও উন্নত বৈশিষ্ট্য। টেসলার তুলনায় বিওয়াইডির গাড়ির দাম অনেকটা কম। চীনে তীব্র চাপের কারণে শেনঝেনভিত্তিক কোম্পানিটি বিদেশি বাজারে সম্প্রসারণের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। তবে কম দামের কারণে বিভিন্ন বাজারে নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
যদিও বিওয়াইডি গত বছর ভালো করেছে, তবুও ইভি ও হাইব্রিডসহ মোট বিক্রির প্রবৃদ্ধি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। ২০২৫ সালে কোম্পানিটি মোট ৪৬ লাখের বেশি গাড়ি বিক্রি করেছে।
চীনের বাজারেও প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এইচএসবিসির গবেষণা অনুযায়ী, নতুন কোম্পানির ভিড় কিছুটা কমলেও বর্তমানে প্রায় ১৫০টি গাড়ি ব্র্যান্ড এবং ৫০টির বেশি ইভি কোম্পানি কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র।
চীনের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইভি কোম্পানি জিলি, দ্রুত বর্ধনশীল লিপমোটর এবং ২০২৪ সালে প্রথম ইভি বাজারে আসা শাওমির কারণে বিওয়াইডি ঘরোয়া বাজারে ব্যাপক প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। ফলে তাদের প্রবৃদ্ধি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

