ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল বৃহস্পতিবার একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ২। এতে দেশটির দক্ষিণ নেগেভ মরুভূমি ও লোহিত সাগরসংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ডিমোনার কাছাকাছি এলাকায়। ইউরোপিয়ান–মেডিটেরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ভূমিকম্পের মাত্রা নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে, কম্পনটি দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকায় অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের পরপরই ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড দক্ষিণ নেগেভ ও লোহিত সাগর অঞ্চলে সতর্কবার্তা জারি করে। সতর্কতার পর ওইসব এলাকার বহু বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভূমিকম্প অনুভব করার অভিজ্ঞতার কথা জানান।
ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদম (এমডিএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো আহত ব্যক্তি বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ব ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ১৯৬০ সালে চিলির বিওবিও প্রদেশে। ‘ভালদিভিয়া ভূমিকম্প’ নামে পরিচিত এই দুর্যোগের মাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫। প্রায় ১০ মিনিট স্থায়ী ওই ভূমিকম্পে প্রাণ হারান ১ হাজার ৬৫৫ জন এবং বাস্তুচ্যুত হন কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ।
১৯৬৪ সালে আলাস্কায় সংঘটিত ৯ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটি ইতিহাসের দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত। ওই ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে প্রাণ হারান ১৩০ জন এবং ক্ষয়ক্ষতি হয় প্রায় ২৩০ কোটি ডলারের।
তৃতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি ঘটে ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর সুমাত্রা দ্বীপে। ৯ দশমিক ১ মাত্রার এই ভূমিকম্প ১০ মিনিটেরও বেশি সময় স্থায়ী হয় এবং সৃষ্ট সুনামিতে ১৪টি দেশে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। এটি ‘বক্সিং ডে সুনামি’ নামে পরিচিত। কোথাও কোথাও ৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ে, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় উপকূলীয় জনপদ। বাস্তুচ্যুত হন ১১ লাখের বেশি মানুষ।
তবে প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পটি ঘটে ১৫৫৬ সালে চীনের শানসি প্রদেশে। এতে প্রাণ হারান প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। এছাড়া ১৯৭৬ সালে চীনের তাংশানে ২ লাখ ৫৫ হাজার, ১১৩৮ সালে সিরিয়ার আলেপ্পোয় ২ লাখ ৩০ হাজার, ১৯২০ সালে চীনের হাইয়ুহানে ২ লাখ এবং ৮৫৬ সালে ইরানের দামঘানে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।
এই ভয়াবহ ইতিহাসের তুলনায় ইসরায়েলে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পটি তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী হলেও ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে প্রস্তুতির গুরুত্ব আবারও সামনে এনে দিয়েছে।

