মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ যখন বাড়ছে, ঠিক তখনই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে আফগানিস্তান। দেশটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে—তাদের ভূখণ্ড কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে ইরানকে সহায়তা করার ইঙ্গিতও দিয়েছে কাবুল প্রশাসন।
রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুব। তিনি বলেন, আফগানিস্তান কোনো দেশের জন্য হুমকি নয় এবং তাদের মাটি কখনোই অন্য রাষ্ট্রকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, কিছু বিদেশি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে আফগানিস্তানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
এদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, যদি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালায় এবং ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা চায়, তাহলে আফগানিস্তান নিজেদের সক্ষমতার ভেতরে থেকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
তবে তিনি এটাও পরিষ্কার করেন যে তালেবান কোনো ধরনের যুদ্ধ চায় না। তাদের আশা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, ইরান নিজেই তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম। তিনি উল্লেখ করেন, আগের ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান বিজয়ী হয়েছিল—এটি তাদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ বলে মনে করেন তিনি।
আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা দুইভাবে দেখছেন। একদিকে এটি প্রতিবেশী ইরানের প্রতি কূটনৈতিক সমর্থনের বার্তা, অন্যদিকে নিজেদের সার্বভৌম অবস্থান পরিষ্কার করারও প্রচেষ্টা।
আফগানিস্তান বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জের মুখে। এমন পরিস্থিতিতে বড় শক্তিগুলোর সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, কাবুলের এই বার্তা শুধু আঞ্চলিক রাজনীতিতেই নয়, বৈশ্বিক কূটনৈতিক অঙ্গনেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয় এবং সেই প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তান কতটা সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

