ভয়াবহ বন্যার মধ্যেই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পেরুতে শিশুসহ ১৫ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এমআই-১৭ মডেলের সামরিক হেলিকপ্টারটির সঙ্গে হঠাৎ রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে দেশটির বিমানবাহিনী দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
সোমবার পরিচালিত অনুসন্ধান অভিযানে দুর্ঘটনাস্থল থেকে হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে চারজন ক্রু সদস্য এবং ১১ জন যাত্রী ছিলেন।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, নিহত যাত্রীদের মধ্যে সাতজনই শিশু। এর মধ্যে মাত্র ৩ বছর বয়সী এক শিশুও ছিল। এছাড়া একজনের বয়স ছিল ১০ বছর, তিনজনের বয়স ১৪ বছর, একজন ১৫ বছর এবং আরেকজন ১৭ বছর।
মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে পেরুর আরেকুইপা অঞ্চলে তীব্র বন্যা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস, রাস্তা ধস, ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়া এবং গাছপালা উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক হেলিকপ্টারটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করছিল।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঝড় ও বন্যার প্রভাবে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। কাইমা জেলায় বন্যার পানিতে এক বৃদ্ধা ভেসে যান এবং বজ্রপাতে এক ব্যক্তি প্রাণ হারান।
হেলিকপ্টারটির রেডিও যোগাযোগ কেন বিচ্ছিন্ন হলো এবং দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ কী—তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্গম ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হওয়ায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনাও ছিল বেশ কঠিন।
পেরুতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উদ্ধারকাজে সামরিক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে এবারের এই দুর্ঘটনা পুরো দেশকে শোকাহত করেছে।
সব মিলিয়ে, বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই এই মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা পেরুর জন্য দ্বিগুণ বিপর্যয় হয়ে দেখা দিয়েছে।

